> সংবাদ শিরোনাম
received_485131195918559

মোল্লা বাজার সেতু নির্মাণে অগ্রগতি নাথাকায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ শামীম শেখ তুষারঃ   রাজধানীর পাশের ২৫২ মিটারের একটি মাত্র সেতু মুন্সীগঞ্জের ৪ উপজেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যানজটবিহীন দ্রুত যাতায়াতের জন্য মোল্লাবাজার সেতুটি ২০ ডিসেম্বর ২০২০ দ্বিতীয় বাড়ের মত নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তৃতীয় মেয়াদের মাঝামাঝি এসে কাজ হয়েছে মাত্র ৩৪ শতাংশ। যদিও এই সেতু ব্যবহার করে সহজে ঢাকায় যেতে ১৫ বছর আগেই নির্মান করা হয়েছিল ১৬ কিঃ মিঃ পিচ ঢালাই সড়ক। অনেক চড়াই উৎরাই পেড়িয়ে সেতুটি নির্মানের কাজ শুরুর পর থেকে কার্যাদেশের সময় তিন বছর শেষে ব্রিজটির ৮টি খুটির মধ্যে ৪টি নির্মান সম্পন্ন হলেও নদীর পানিতে ২টি সহ আরো ৪টির কাজ চলছে ঢিলেডালা ভাবে। জেলা সদর, টঙ্গীবাড়ি, লৌহজং ও সিরাজদিখান উপজেলার প্রায় ১৫ লাখ লোকের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সেতুটি নির্মাণ কাজ প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুম শুরুর ১৫ দিন দিন আগে গতি পায় যা পরে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়। মুন্সীগঞ্জের বেতকা চৌরাস্তা হতে সিরাজদিখানের মোল্লা বাজার হয়ে ব্রিজের গোড়ার দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার সেখান থেকে ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত সড়কপথে দূরত্ব ৬ কিলোমিটার যাহা অতিক্রম করতে সময় লাগে যানজট বিহীন ২০ মিনিট। অথচ সিরাজদিখান হয়ে ঢাকা-মাওয়া হাইওয়ে দিয়ে ঢাকার দূরত্ব ৪২ কিলোমিটার। আর যেতে সময় লাগে প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা।

আরো দুটি পথ রয়েছে ঢাকা যেতে তা হলো নারায়নগঞ্জের চাষারা দিয়ে অপরটি পাগলা দিয়ে দুটি পথেই অসহনীয় যানজট। মুন্সীগঞ্জ থেকে ৩ ঘন্টার আগে ঢাকা যাওয়ার কথা চিন্তাই করা যায় না। তাই মোল্লা বাজার সেতুটি নির্ধারিত সময়ে নির্মাণ না হওয়ায় দুই পারের লাখ লাখ মানুষকে ঝুঁকি নিয়েই ট্রলার কিংবা দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ফেরি দিয়ে নদী পারাপার হতে হচ্ছে। সেতুটি মুন্সীগঞ্জের শেষ সীমানা সিরাজদিখানের বালুচরের পাশেই ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শেষ সীমানা মোল্লাবাজারে ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০১৮ সালের ১৮ জুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। ২৫২ মিটার লম্বা আর ১০ মিটার প্রস্থ সেতুটি রিভাইজার হচ্ছে ৩৫২ মিটার। সেতুটি নির্মাণ শেষ হলে ঢাকা ও মুন্সীগঞ্জ জেলার মধ্যে সেতুবন্ধন হবে। সেতুর নির্মাণ ব্যয় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ ৪২ হাজার ২৮৪ টাকা। সুরমা এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০ ডিসেম্বর ২০২০ইং ২য় মেয়াদে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল।

গত এক যুগ আগে নির্মিত মুন্সীগঞ্জের বেতকা চৌরাস্তা হয়ে সিরাজদিখানের লালমিয়ারচর, সাপেরচর, বালুরচর, দঃকেরানীগঞ্জের মোল্লাবাজার দিয়ে পোস্তগোলা বুড়িগঙ্গা সেতু-১ সংলগ্ন ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে সংযুক্ত হওয়া সড়কটি সঠিক ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। সিরাজদিখান থেকে ৬ কিলোমিটার দূরত্বে ঢাকা যাওয়া আসার সুযোগ থাকলেও বাধা মোল্লাবাজারে ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন মোল্লাবাজার সেতু। বেতকা ব্রিজ, লাল মিয়ার চর ব্রিজ, সাপের চর ব্রিজ, বালুরচর ব্রিজ, তেঘরিয়া ব্রিজসহ পিচ ঢালাই করা রাস্তা থাকলেও শুধু মোল্লাবাজার সেতুটিই সকল নির্মাণকে কার্যকরী হতে দিচ্ছে না। ৪২০ মিটার লম্বা বালুচর ব্রিজ নির্মানে মাত্র দেড় বছর সময় লাগলেও ২৫২ মিটার মোল্লা বাজার সেতু নির্মান নিয়ে চলছে তালবাহানা। সরেজমিন সেতু এরিয়ায় গিয়ে দেখা যায়, ধলেশ্বরী শাখা নদীর পশ্চিমপাড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অফিস রয়েছে আর পূর্ব পাশে লম্বা টিন সেড বানিয়ে সেখানে দিনরাত তাস খেলা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রকল্পের সাইড অফিসটি জুয়া খেলা আর মাদক সেবনের আখড়া। সেখানে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, এ পর্যন্ত সেতুটির ডিজাইন ৪ বার পরিবর্তন করা হয়েছে। সেতুর দুই পাড়ের সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ নিয়েও জটিলতা ছিল। এছাড়া চাহিদা মোতাবেক অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় নির্মাণ কাজে ধীরগতি চলছে। নদীর দুই পাড়ের স্থানীয়রা জানান, সেতুটি ঘিরে রয়েছে শত শত কোটি টাকার ব্যবসা। দুই পারে দেশের শীর্ষস্থানীয় হাউজিং কোম্পানির প্রজেক্ট। তারা কমদামে জমি ক্রয়ের জন্য সেতু নির্মাণে ষড়যন্ত্র করছে। তাছাড়া প্রতিদিন অর্ধলক্ষ লোক ও পণ্যসামগ্রী গুদারা ঘাটের নৌযান দিয়ে নদী পারাপার হয় সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ টাকার ছড়াছড়িতো রয়েছেই। সিরাজদিখান বালুচরের ডাচ্ বাংলা ব্যাংক উদোক্তা নাজমুল মোল্লা জানান, আমরা সেতুটি নির্মান অপেক্ষায় আছি, দ্রুত সেতুটি নির্মান হলে আমাদের উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে। তাছাড়াও মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের মানুষ মাত্র ২০ মিনিটে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে।

বালুচর ইউপি চেয়ারম্যান ও সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক জানান, আমাদের অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপন্য দ্রুত ঢাকার বাজার গুলোতে পৌঁছাতে সেতুটি দ্রুত নির্মান দরকার। কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিতে যাতায়াত সহজ হলে কৃষকরা উৎসাহী হবে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান আলী জানান, প্রকল্প এখন ২৫২ মিটার সেতু নির্মান, আমরা টেন্ডার দিয়েছি কাজ চলছে। সেতুর এপ্রোচ কিছু ডিজাইন পরিবর্তন হয়েছে যার টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন ২০২২ সালের জুন নাগাদ নির্মান কাজ শেষ হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful