খুলনা মহানগরীতে শেষ মুহুর্তে প্রচার প্রচারণা জমে উঠেছে - সংবাদ দিগন্ত ।। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিনিয়ত

খুলনা মহানগরীতে শেষ মুহুর্তে প্রচার প্রচারণা জমে উঠেছে

মোঃ রবিউল হোসেন খান (খুলনা প্রতিনিধি)

সন্ন ১২ জুন ২০২৩ খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষ্যে গতকাল সকাল ৯টায় নগরীর খালিশপুর ১২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন স্থানে শেষ মুহুর্তের নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল মনোনীত মেয়র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক নৌকা প্রতিকের পক্ষে।

এ সময় তিনি ১২ নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তা, দোকান পাট,বিহারী ক্যাম্প ও হাউজিং বাজার এলাকায় খুলনা সিটির উন্নয়ন মুলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখা ও সিটিকে তিলোত্তমা নগরী হিসেব গড়ে তোলা ও অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করার লক্ষ্যে পুনরায় নৌকা প্রতিকের পক্ষে ভোট চেয়ে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরন করেন।এ সময় তিনি জানান,নির্বাচন কমিশনের নিয়ম ও আচরন বিধি মেনে নৌকা প্রতিকের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নিয়ম অনুসারে ১২ জুন শনিবার রাত ১২ টার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত নৌকার প্রচারণা চালানো হবে। এ সময় তিনি নগরবাসী তথা ভোটারদের উদ্দেশ্যে
বলেন,ভোটারদের কাছে আমার একটি আবেদন থাকবে আমার খুলনার উন্নয়নে যে কাজ চলমান তা সম্পন্ন করতে আগামী ১২ জুন নৌকা প্রতিকে ভোট দিয়ে একটি আধুনিক খুলনা গড়ার জন্য নৌকা প্রতিকের সমর্থন করবে।এটাই আমার ভোটারদের কাছে আবেদন।

এসময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা মহানগর যুবলীগের সভাপতি শফিকুর রহমান পলাশ,১২নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন কাউন্সিলর প্রার্থীগন ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর প্রার্থী সহ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ।এ দিকে আসন্ন খুলনা সিটি নির্বাচনের বাকী আর মাএ দু দিন।আগামী ১২ জুন উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন।নির্বাচনকে ঘিরে শেষ মুহুর্তে ৩১ টি ওয়ার্ডে এখন চলছে মেয়র প্রার্থী, সাধারণ কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের মহিলা কাউন্সিলর প্রচার প্রচারণা। গোটা নগরী জমে উঠেছে নানামুখী প্রচার প্রচারণায়।গেল ২৬ মে প্রতিক বরাদ্দের পর হতে প্রার্থীরা মাঠে নামে প্রচার প্রচারণার জন্য।ঐ দিন থেকে শুরু করে গনসংযোগ,উঠান বৈঠক, পথসভা,মিছিল সহ লিফলেট বিতরণ। সমস্ত নগরী ছেয়ে গেছে প্রার্থীদের সাদা কালো পোষ্টারে,তাছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২ হতে চলে রাত ৮ পর্যন্ত মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা। নির্বাচনী আচরন বিধি মেনে প্রার্থীরা শেষ মুহুর্তে চালাচ্ছেন প্রচারণা। দারে দারে গিয়ে ভোট চাচ্ছেন।প্রার্থীরা দিচ্ছেন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি। তারা রাস্তা, কালভাট,ড্রেনেজ ব্যাবস্থা,বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর ক্ষমতায়ন,মাদক নির্মুল,মশক নিধন সহ নানা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।সংশ্লিষ্ট সুএে জানা গেছে,কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী, ৩১ টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১৩৪ জন, ও ১০ টি সংরক্ষিত আসনে কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্দন্দীতা করছেন। নির্বাচনে ৫ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লক্ষ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন,পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন।নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতে ২৮৯ টি কেন্দ্রে ১ হাজার ৭শত ৩২ টি ভোট কক্ষের সামনে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে,যা সার্বক্ষনিক নির্বাচন কমিশন মনিটরিং করবে যার কাজ চলমান এবং প্রার্থীরা নির্বাচনের ৩৬ ঘন্টা পুর্বে সকল প্রকার নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা বন্ধ করবে বলে সুএ মতে জানা গেছে। সেই হিসাবে ১০ জুন রাত ১২ টার পর থেকে সকল প্রকার প্রচার প্রচারণা বন্ধ থাকবে বলে জানা গেছে। আসন্ন ১২ জুন কেসিসি নির্বাচনকে ঘিরে ৩১ টি ওয়ার্ডে এখন নির্বাচনী গনজোয়ার চলছে।প্রার্থীরা শেষ মুহুর্তে প্রচারনা চালাতে মহাব্যাস্ত।সকাল, দুপুর,রাত সহ সমগ্র দিন জুড়ে ব্যাস্ত সময় পার করছেন।এলাকা জুড়ে চলছে গনসংযোগ,লিফলেট বিতরন সহ নানামুখী প্রচার প্রচারণা। নির্বাচনী এলাকায় বিভিন্ন পাড়া মহল্লা থেকে ভেসে আসছে মাইকের শব্দে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি। এখন প্রচারণার শেষ মুহুর্তে চলছে চুলছেড়া হিসাব নিকেষ কে হচ্ছেন আগামী ১২ জুন নির্বাচনে নগর পিতা ও ৩১ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর।সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর মেমরী সুফিয়া রহমান শুনু বলেন,আগামী ১২ জুন কেসিসি নির্বাচনে সকল আচরন বিধি মেনে প্রচারণা চালাচ্ছি। প্রচারনার শেষ মুহুর্তে সকল ভোটাদের বাড়ি যাচ্ছি।আমি বিগত দিনে এলাকার জনগনের পাশে ছিলাম এবং জনগন আশাকরী আমাকে বিজয়ী করবে ভোটের মাধ্যমে। ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না বলেন,আমি দীর্ঘদিন ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ছিলাম ও সাথে প্যানেল মেয়র ১ ছিলাম। আমি এলাকার ধনী,গরীব সকল শ্রেণির লোকের রাত দিন কাজ করেছি।আমার এলাকার ভোটাররা আশাকরী আগামী ১২ জুন পুনরায় আমাকে তাদের ক্ষেদমতে নিয়োগ করবে।তিনি আরো বলেন বয়স্ক,প্রতিবন্ধী, ভিজিডি,টিসিবিকার্ড সহ সরকারী সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা আমি এলাকার জনগনের মাঝে সমভাবে বন্টন করেছি।এদিকে এবার প্রথমবারের ইভিএমের মাধ্যমে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।ইতিমধ্যে ৩ হাজারের বেশি ইভিএম মেশিন খুলনা মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে পৌঁছে গেছে।চলছে তার আপগ্রেডের কাজ। এদিকে মেশিন নিয়ে কেউ যেন গোলযোগ সৃষ্টি না করতে পারে সে ব্যাপারে আইন শৃংখলা বাহিনী থাকবে প্রতিটি কেন্দ্রে। এবারের কেসিসি নির্বাচনে ৩১ টি ওয়ার্ডের ২৮৯ টি কেন্দ্রের ১৭৩২ টি বুথে থাকবে ইভিএম মেশিন।এছাড়া আরো কিছু অতিরিক্ত মেশিন থাকবে কোথাও সমস্যা হলে দেওয়া হবে। এছাড়া ভোটের দিন ৩১ টি ওয়ার্ডের ২৮৯ টি মধ্যে ১৬১ কেন্দ্রকে ঝুকি পুর্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সার্বিকভাবে সকল প্রকার বিবেচনায় এ কেন্দ্র গুলোকে ঝুকিপূর্ণ ঘোষনা করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। এদিকে ১২৮ কেন্দ্রের তুলনায় এগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা দিবে পুলিশ। পাশাপাশি নির্বাচনের কাজে ৩ হাজার ৫৬৬ জন পুলিশ, ৩০০ আর্মড পুলিশ, ও ৪ হাজার ৬৫৭ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবে। নগরীতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।থাকবে টহলে র‍্যাব,বিজিবি। ১০ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিষেটট থাকবে।নির্বাচন অবাধ,নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর এমনটি জানিয়েছেন নির্বাচনের রির্টানিং কর্মকর্তা মোঃ আলাউদ্দিন।

Show More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Check Also
Close
Back to top button