> সংবাদ শিরোনাম
received_1142129056557303

অজানা রোগে ঝড়ে যাচ্ছে গোলাপের কলি, দিশেহারা চাষিরা

মোঃ রিপন মিয়া স্টাফ রিপোর্টার:

সাভারে হঠাৎ করেই অজ্ঞাত কারণে গোলাপ ফুলে কলি গাছ থেকে ঝড়ে পড়ছে, শুকিয়ে মরে যাচ্ছে গাছের ডালপালা। ভরা মৌসুমে গোলাপের এমন অবস্থায় লাভ তো দুরের কথা, ঋনের চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন গোলাপ চাষিরা। করোনার কারনে গত দুই বছর ধরে ফুল বিক্রি না হওয়ায় লোকসানে রয়েছেন চাষীরা। সামনে ভালোবাসা দিবস এবং আন্তার্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে কেন্দ্র করে ফুল বিক্রি করে লোকসান পুসিয়ে নেয়ার জন্য অনেকেই ঋন করে গোলাপ চাষ করেছেন। কিছুদিন পরেই তাদের স্বপ্ন পুরনের সময় চলে আসছিলো। কিন্ত হঠাৎ করে অজানা রোগ পুরো গোলাপ গ্রামকে গ্রাস করে নেয়ায় এ যেন তাদের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘাঁ। ফুল এবং গাছকে বাঁচাতে কোন চেষ্টার কমতি নেই চাষীদের। নিজেরা বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের ঔষুধ কিনে প্রয়োগের পাশাপাশি পরামর্শ নিচ্ছেন উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকেও। কিন্তু কোন কিছুতেই কিছু না হওয়ায় পুরো গোলাপ গ্রামে চাষীদের মাঝে চাপা কান্না বিরাজ করছে।
সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের বাগ্নীবাড়ী, মইস্তাপাড়া, কাকাবো, সামাইর, সাদুল্লাপুর, শ্যামপুর, ভবানীপুর, বনগ্রাম, আক্রানসহ অন্তত বিশটি গ্রামে প্রায় ৩’শ হেক্টর জমিতে বানিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়। এর মধ্যে শুধু গোলাপ চাষ হয় দুইশ হেক্টর জমিতে। বাকী জমিতে জারবেরা, গ্লাডিওলাস, রজনী গন্ধাসহ বিভিন্ন জাতের ফুল চাষ হয়।

received_422054209670209
এসব গ্রামের চাষীদের সিংহ ভাগই ফুল চাষের সাথে জড়িত। এখানকার উৎপাদিত ফুল রাজধানীর আশপাশের বাজারে বিক্রী হয়ে থাকে। এছাড়া ফুল বিক্রীর জন্য স্থানীয়ভাবে কয়েকটি ফুল মার্কেটও গড়ে উঠেছে। তবে করোনার কারণে গেলো দু’বছর ধরে ফুল বিক্রী না হওয়ায় চাষীরা লোকসানে পড়েছেন। তবুও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে ক্ষতি কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় ফুল চাষে দিনরাত পরিশ্রম আর দেখভালে ব্যস্ত সময় পার করছিলো ফুল চাষীরা।
ফুল চাষী সোলায়মান গত ৯ মাস ধরে তিনি নিজে এবং শ্রমিকদের সাথে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সার, কীটনাশক ও ভিটামিন দিয়ে ফুল বাগানের পরিচর্যা করে আসছিলেন। বর্তমানে বাগানে প্রচুর ফুলের কলিও আসতে শুরু করেছে। সামনেই ভালোবাসা দিবস এবং ২১শে ফেব্রুয়ারীতে ভালো দামে ফুল বিক্রী করে ঋন পরিশোধের পাশাপাশি সংসারের খরচও উঠিয়ে আনবেন বলে স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু গত ১৫ দিন ধরে গোলাপ বাগানে অজানা রোগের কারনে ফুলের কলি বের হওয়ার সাথে সাথে কালো হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া পাপরিতে সিট পরার পাশাপাশি সেগুলো পচে বাগানেই ঝড়ে পড়ছে।
এলাকার অন্যান্য গোলাপ চাষীরা জানান, ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গোলাপের মৌসুম শুরু হওয়ায় চাষিরা ধার-দেনা করে নতুনভাবে ফুল বাগানের পরিচর্যা শুরু করে। প্রতিদিন চার থেকে পাঁচশ টাকা চুক্তিতে একাধিক দিনমজুর নিয়ে ফুলের বাগানের আগাছা পরিষ্কার, সার-কীটনাশক ছিটানো, মাটি তৈরিসহ নানা ধরনের কাজ করায় অনেকের বাগানে ফুলও ফুটতে শুরু করেছে। কেউ কেউ ফুল বিক্রিও শুরু করেছেন। প্রতিটি গোলাপ ১০ থেকে ১২ টাকায় পাইকারি দরে বিক্রি হচ্ছে।

received_1137812463693994
শ্যামপুর এলাকার আবুল হাসেম বিশ বছর ধরে নিজের ৪ বিঘা জমিতে ফুল চাষ করছেন। এটা দিয়ে তার ৫ সদস্যের পরিবার চলে। করোনায় গত ৭ মাস ফুল বিক্রি করা না হওয়ায় বাগানের ফুল বাগানেই ঝরে গেছে। এসময় ধার-দেনা করে পরিবার চালাতে হয়েছে তার। ইতোমধ্যে গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে এবং ১৪ ফেব্রুয়ারী এবং ২১ ফেব্রুয়ারীতে ফুল বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি।
বিরুলিয়ায় ফুল চাষ করে পাঁচ শতাধিক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু অজানা রোগের আক্রমনে নতুন করে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ফুল চাষীরা। এছাড়া সরকারীভাগে তাদেরকে ঋণ সুবিধা না থাকায় বিভিন্ন সংকট থেকে ঘুরে দাঁড়াতে পারছেন না। তাই গোলাপ গ্রামের অস্তিত্ব ধরে রাখতে চাষিদের দ্রুত সহজশর্তে ঋণ দেয়ার দাবি জানিয়েছেন ফুল চাষিরা।

received_1137812463693994
সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজিয়াত আহমেদ বলেন, আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষসহ এ বিষয়ে যারা বিশেষজ্ঞ তাদের সাথেও পরামর্শ করেছি। মূলত এটা হলো আবহাওয়ার সমস্যা। শীত এবং বৃষ্টির কারনে পাশাপাশি ছত্রাকের আক্রমনের কারনে গাছ মাটি থেকে খাবার নিতে পারছেনা। এজন্য আামরা ঔষুধ দিয়েছি কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছেনা।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful