ব্রিজ নয় যেন ফলের আড়ত : আবর্জনা ফেলে খাল ভরাট

মোঃ শামীম শেখ তুষার(কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি) সরু একটি ব্রিজ, পথচারীদের পারাপারেই অসুবিধা হয়; তার ওপর প্রায় পুরো ব্রিজ দখল করে বসে আছে ফলের দোকান। ফলের দোকানের উচ্ছিষ্ট হিসেবে আম ও লিচুর ঝুড়িসহ বিভিন্ন ময়লা দিয়ে খাল পরিপূর্ণ। এমন চিত্রই চোখে পড়বে কেরানীগঞ্জের পূর্ব আগানগর গুদারাঘাট জোড়া ব্রিজে। শুভাঢ্যা খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করে দুপাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণ করে সৌন্দর্যবর্ধনের প্ল্যান করছে সরকার। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় বাসিন্দাদের খালে ময়লা না ফেলার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা দিলেও প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবেই খালে উচ্ছিষ্ট ফেলে দূষণ করে চলছে ব্রিজ দখল করে বসা ফল ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও প্রতিদিন এসব দোকান থেকে এলাকার কথিত নেতারা চাঁদা তুলে এবং রাতের বেলায় অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার করে বাতি জ্বালিয়ে দোকানদারদের কাছ থেকে প্রতিদিন এক বাতি বাবদ ২০-৩০ টাকা করে বিল আদায় করা হচ্ছে।

গার্মেন্টসপল্লী খ্যাত পূর্ব আগানগর গুদারাঘাটে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন। এই শ্রমিকদের বেশিরভাগই কালীগঞ্জ বাজার, কৈবর্তপাড়া, চরকুতুব, জিয়ানগরের আশপাশে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন। এসব শ্রমিক-কর্মচারীসহ প্রতিদিন লক্ষাধিক লোককে এই ব্রিজ ব্যবহার করতে হয়। সরু ব্রিজের ওপর অর্ধেক দখল করে ফলের দোকানের কারণে তাদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইমি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইলিয়াস খান জানান, প্রতিদিন সকাল দুপুর রাতে এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে হয়। দুপুরে ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত লাঞ্চ আওয়ারে সবাই একসাথে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছুটলে এই ব্রিজে মানবজটের সৃষ্টি হয়। অর্ধেক দখল করে দোকানপাট বসানোয় আমাদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এলাকার কথিত নেতারা এ দোকানপাট বসিয়ে চাঁদা আদায় করে বলে কেউ তাদের কিছু বলতে সাহস পায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, এখানে দোকানপাট বসিয়ে ব্রিজের ওপর জনসাধারণের চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নতুন নয়, এ দোকানপাট কয়েক বছর ধরে চলছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ গণ্যমান্য সকলেই এ বিষয়ে জানে কিন্তু কেউ কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।

এ প্রসঙ্গে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিত দেবনাথ বলেন, জনগণের চলাচলের জন্য ব্রিজ, এটি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি। এখানে অবৈধভাবে দোকানপাট স্থাপন করে জনগণের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। এছাড়া ময়লা-আবর্জনা ফেলে খাল ভরাট করা দণ্ডনীয় অপরাধ। যদি এগুলো কেউ করে থাকে তাহলে তদন্তসাপেক্ষে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।