মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসার দৃষ্টান্ত

সাকিবুল ইসলাম সুজনঃপৃথিবীর সবচেয়ে মধুর শব্দ “মা”। এই “মা” শব্দে কি যে মধু আর যাদু আছে তা বর্ননাতীত। ঐ মধুর নাম নিলে হৃদয় হাসে, ঐ মধুর নামে সুখ নেমে আসে। ঐ নামের তুলনা নাই, নাই, নাই।

সন্তান ও মায়ের সম্পর্কে অচ্ছেদ্য। পৃথিবীর সব সম্পর্কে খাদ থাকতে পারে কিন্তু মায়ের সাথে সন্তানের সম্পর্ক নিখাদ। সন্তান ও মায়ের সম্পর্ক নাড়ির। এই ধরাপৃষ্ঠে সন্তানের জন্য মা, আবার মায়ের জন্য সন্তানের অকাতরে হাসি মুখে ত্যাগ, কুরবানী ও জীবন দানের অগনিত উদাহরণ রয়েছে। বিশ্বখ্যাত মনীষী বায়েজিদ বোস্তামি মায়ের প্রতি ভালোবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ইতিহাসে অনুকরণীয় হয়ে আছেন।

তেমনি অখ্যাত এক মজিদ ফরাজি যিনি মায়ের প্রতি ভালোবাসার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন৷ মজিদ ফরাজি জন্ম তাহার ১১ই জুন ১৯৬০ ইং সালে পিরোজপুর জেলার মঠবাড়ীয়া থানার ধানীসাফা ইউনিয়নের তেতুলবাড়িয়া গ্রামে। কৃষক মজিদ ফরাজি সহজ সরল ও ধার্মিক মানুষ হিসাবে সকলের কাছে পরিচিত। ২০১৬ ইং সালে মজিদ ফরাজি তাঁর মাকে হারান। বাড়ির নিকটবর্তী ছোট খাল সংলগ্ন জমিতে নিজ হাতে মাকে কবরস্থ করেন। সম্প্রতি সময়ে ঐ খালে ওয়াপদার কাজ হাতে নেয় সরকার যা মজিদ ফরাজির মায়ের কবরকে নিশ্চিহ্ন করে ফেলতো। অনেকে পরামর্শ দেয় কবরের হাড্ডিগুলো স্থানান্তরিত করে পুনরায় কবরস্থ করার জন্য। কিন্তু এতে মায়ের প্রতি অমর্যাদা হবে ও মায়ের আত্না কষ্ট পাবে বলে মজিদ ফরাজি এই প্রস্তাবে সায় দিলেননা। তিনি সমূলে মায়ের কবর তুলে অন্যত্র কবরস্থ করার সিদ্ধান্ত নেয়। সবার কাছে এটা অদ্ভুত ও অসম্ভব মনে হলো কিন্তু মজিদ ফরাজি এই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন। কোদাল ও খোন্তা নিয়ে কবরের চারপাশে খুড়ে পুরো কবরটিকে তিনি মূল মাটি থেকে আলাদা করলেন। আর এই অসাধ্য কাজটি করতে তিনি সময় নিয়েছেন প্রায় এক মাস তাও আবার রমজান মাসে রোজা রেখে। একজন ৬২ বছরের বৃদ্ধ মানুষের পক্ষে রোজা রেখে কোন আধুনিক যন্ত্রপাতি ছাড়া শুধুমাত্র কোদাল ও খোস্তা নিয়ে এই কাজটি করা কতটা দুঃসাধ্য ও কষ্টকর তা সহজেই অনুমেয়। শুধু কি এখানেই শেষ! এবার কবর পুনঃস্থাপনের পালা। প্রায় তিন হাত চওড়া, পাঁচ হাত লম্বা ও তিন হাত পুরত্ব এই মাটির কবর অক্ষত অবস্থায় স্থানান্তর মোটেও সহজ নয়। সম্পূর্ন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে মোটা সুতা, সুপারি গাছ ও কাঠের সহায়তায় প্রায় ৩৫ জন লোকের চেষ্টায় অবশেষে মূল কবর থেকো ১৫ হাত দূরে কবরটি স্থানান্তর করা হলো।

এ সম্পর্কে তেতুলবাড়িয়া গ্রামের মানুষ বলেন
মজিদ ফরাজি তাঁর এই মায়ের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসার খবর ফেসবুকে দিতে জানেনা, কবর খোড়ার সময় সেলফি তুলতে জানেনা কিংবা মা দিবসে মাকে উইশ করতে জানেনা কিন্তু হৃদয়ের সবটুকু ভালোবাসা ও শক্তি উজাড় করে মাকে ভালোবাসতে জানে। অখ্যাত মজিদ ফরাজির এই অসাধ্য সাধনের খবর সবার অগোচরে থাকলে আল্লাহর দরবারে মর্যাদায় তিনি অগ্রভাগেই থাকবেন।
গ্রামবাসি আরও বলেন মজিদ ফরাজিকে লাখো কোটি সালাম! তিনি ধন্য মায়ের ধন্য সন্তান।

এ সম্পর্কে মজিদ ফরাজি “দৈনিক সংবাদ দিগন্তকে” বলেন মায়ের প্রতি দ্বায়িত্ব ও ভালবাসা থেকেই এ কাজ করেছি। আল্লাহ যেনো আমার মাকে জান্নাত দান করেন সকলের কাছে সেই দোয়া চাই।