স্বাস্থ্যবিধি মেনে নৌযান চলাচলের অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন

শাকিবুল হাসানঃ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নৌযান চলাচলের অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।

বুধবার (৫ মে) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি দেন ফেডারেশন সভাপতি শাহ আলম ভূঁইয়া। নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকেও স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন।

এ সময় শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, শত সংকটের মধ্যেও করোনার সূচনা থেকে সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করে আসছে নৌশ্রমিকরা। গত বছরের ‘লকডাউনে’ দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় চরম অর্থ সংকটের মধ্যেও নৌযান শ্রমিকরা সরকারের প্রতিটি নির্দেশনা মেনে চলেছেন। বিনিময়ে সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোনো প্রণোদনা নৌযান শ্রমিকদের ভাগ্যে জোটেনি। অনেক মালিক অর্ধেক বেতন দিয়েছেন। এরপরেও আমরা সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপান্তরিত করার কাজে সহযোগিতা করে আসছি। এমন অবস্থায় গত ৫ এপ্রিল থেকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছে নৌযান শ্রমিকরা।

‘কিন্তু এ পবিত্র রমজান মাসে নৌ-শ্রমিকদের সরকার বা মালিকদের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা করা হয়নি। অনেক নৌ-শ্রমিক মার্চ মাসের বেতন এখনও পর্যন্ত পায়নি। শ্রমিকরা রমজানে পরিবার-পরিজনের জন্য সামান্য ইফতার সামগ্রীও পাঠাতে পারেনি। এর পরেও আমরা সরকারের বিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্তের প্রতিক্ষায় ছিলাম।’

তিনি বলেন, বর্তমানে সারাদেশে সর্বত্র ‘লকডাউন’ শিথিল পর্যায়ে রয়েছে। ব্যাংক, দোকান, শপিংমল, হাটবাজার ইফতার সামগ্রী বেচাকেনাসহ কোথাও ‘লকডাউন’ পালন দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না। দূরপাল্লার বাস ও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে সচল রয়েছে। দেশের একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে যাতায়তের ক্ষেত্রেও কোনোরূপ বিধি-নিষেধ নেই। শুধু সরকারি নিষেধাজ্ঞার দোহাই দিয়ে যাত্রী সাধারণকে এক টাকার স্থলে ৫ টাকা দিয়ে যাতায়াত করা ছাড়া আর কোনো বাধা নেই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করছি, নৌযান শ্রমিকদের চরম অর্থনৈতিক দুরাবস্থার কথা বিবেচনা করে বর্তমান বাস্তবতায় নৌ-চলাচলের ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধ শিথিল করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে নৌ-চলাচলের অনুমতি দেওয়ার জন্য। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে নৌ-চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। একান্তই যদি নৌ-চলাচলের অনুমতি দেওয়া অসম্ভব হয়, তাহলে ঈদের আগেই অর্থাৎ আগামী ১০ মে’র মধ্যে প্রতিটি নৌ-শ্রমিকের বকেয়া বেতন-বোনাস পেতে পারে তার আশু পদক্ষেপ নেবেন বলে জানানো হয়।