ঝালকাঠি অঞ্চলে নদীর পানি লবনাক্তঃ উদ্বেগ এলাকাবাসির

সাকিবুল ইসলাম সুজনঃ নদী বেষ্টিত জেলা ঝালকাঠি অঞ্চল। ঝালকাঠির ওপর দিয়ে বয়ে গেছে সুগন্ধা, ধানসিড়ি, পোনা, কুমারখালি, গাবখান, বিষখালি, জাঙ্গালীয়া সহ ছোট বড় অনেক নদী।

এগুলো মিঠা পানি নদী হিসেবে পরিচিত। হঠাৎ করে লবনাক্ত হয়ে গেছে এ নদীর পানি। গত ১লা এপ্রিল থেকে পূর্ণিমার জোয়ারের পানি আসার পর থেকেই পানি লবনাক্ত অনুভব করেন এসব নদী তীরবর্তী মানুষ।

হঠাৎ করে নদীর পানি লবন হওয়ার বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এতে ফসলের ক্ষতি হওয়ার শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। কিন্তু কিভাবে পানি লবণাক্ত হলো তা নিয়ে সাধারন মানুষের রয়েছে নানান ভাবনা। কেননা এসব নদী থেকে সাগর অনেক দূরে আর জোয়ার ভাটা খুব কম সময়ে হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, এই প্রথম এসব নদীর পানি লবণাক্ত দেখা দিয়েছে। এসব নদী পাড়ের মানুষ জানালেন মতামত, আমাদের জীবনে কখনও এ নদীতে নোনা পানি আসতে দেখিনি। এমনকি আমাদের পূর্ব পুরুষদের কাছেও কখনও এমন ঘটনা শুনিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই লবণ দেখা দিল পানিতে যা ভাবনার বিষয়।

এ পানি বেশিদিন স্থায়ী হবে কিনা তা নিয়েও সংসয় তৈরি হয়েছে। এদিকে পানিতে বেশি পরিমাণ লবণ দেখা দিলে মানুষের জীবনযাপনে অসুবিধা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা।

বিষখালি নদী তীরের বাসিন্দা সিদিকুর রহমান আমাদের বলেন, আমি মানুষের কাছ থেকে শুনে নিজেই নদীর পানি মুখে নিয়ে দেখি পানি লবণাক্ত, হঠাৎ কেনো পানি লবণাক্ত হলো একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন। নদীরপাড়ের বাসিন্দা সোহরাব মল্লিক বলেন, আমরা এর আগে নদীতে গোসল করতাম হঠাৎ লবণাক্ত হওয়ায় গোসল করলে শরীর কেমন জানি লাগে এবং এ পানি থেকে রান্না করে খাওয়া যায় না।

এছাড়াও এলাকার চায়ের দোকানদার আল আমিন বলেন, নদীর পানি দিয়ে চা বানালে তা কেউ খেতে পারে না সবাই মুখে নিয়ে ফেলে দেয়।

এ অঞ্চলের কৃষকরা নদীর পানি লবণাক্ত হওয়ায় তাদের কৃষির জন্য মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে শংকা প্রকাশ করেন। এ নিয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের একজন কর্মকর্তা প্রতিবেদককে বলেন, জোয়ারে সমূদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করতে পারে, তবে এ পানি আবার চলে গেলে ফসলের কোন সমস্যা হবে না। এবং বৃষ্টি হলে পানি মিষ্টি হয়ে যাবে।