> সংবাদ শিরোনাম

স্বাগতম ইসলামিক নববর্ষ।

 

প্রফেসর শেখ মাহমুদ আলমঃ হিজরি ১৪৪৪। আজ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র মহররম মাস। আগামী ৯ই আগষ্ট পবিত্র আশুরা।

হিজরি বর্ষ শুরু হয় সম্মানিত মহররম মাস দিয়ে। আবার শেষও হয় সম্মানিত জিলহজ্ব মাস দিয়ে। মুহররম মহান বরকতময় এক মাস। ইসলামের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার স্বাক্ষী পবিত্র এ মাস। শুধু উম্মতে মুহাম্মদিই নয়। বরং পূর্ববর্তী অনেক উম্মত ও নবীদের অবিস্মরণীয় ও বিস্ময়কর সব ঘটনাময় সম্মানিত এই মাস।

মহররম শব্দের অর্থ মর্যাদাপূর্ণ, তাৎপর্যপূর্ণ। মহররম সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর বিধান ও গণনায় মাসের সংখ্যা বারোটি। যেদিন থেকে তিনি সব আসমান ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন। তন্মধ্যে চারটি হলো সম্মানিত মাস। এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান। সুতরাং তোমরা এ মাসগুলোর সম্মান বিনষ্ট করে নিজেদের প্রতি অত্যাচার করো না।’ (সূরা তওবা: ৩৬)

ওই চারটি মাস কী কী? রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘এক বছরে বারো মাস। এর মধ্যে চার মাস বিশেষ তাৎপর্যের অধিকারী। এর মধ্যে তিন মাস ধারাবাহিকভাবে (অর্থাৎ জিলকদ, জিলহজ ও মহররম) এবং চতুর্থ রজব মাস।’ (সহীহ বুখারী: ৪৬৬২ ও মুসলিম: ১৬৭৯)

‘একদা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইয়াহুদীদের কতিপয় এমন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেন, যারা আশুরার দিনে রোজা রেখেছিল। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন এটা কিসের রোজা? উত্তরে তারা বলল, এই দিনে আল্লাহ তা‘আলা হযরত মূসা (আঃ) ও বনী ইসরাঈলকে ডুবে যাওয়া থেকে উদ্ধার করেছিলেন। (অন্য বর্ণনায় আছে ফিরআউনের নির্যাতন থেকে মুক্ত করেছিলেন) এবং ফিরআউনকে দলবল সহ নিমজ্জিত করেছিলেন। আর এই দিনেই হযরত নূহ (আঃ)- এর নৌকা জূদী পর্বতে স্হির হয়েছিল। ফলে এই দিনে হযরত নূহ (আঃ) ও হযরত মূসা (আঃ) কৃতজ্ঞতাস্বরূপ রোজা রেখেছিলেন। তাই আমরাও এই দিনে রোজা রাখি। তখন রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, মূসা (আঃ)-এর অনুসরণের ব্যাপারে এবং এই দিনে রোজা রাখার ব্যাপারে আমি তোমাদের চেয়ে বেশী হ্কদার। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) সেদিন (আশুরার দিন) রোজা রাখেন এবং সাহাবাদেরকেও রোজা রাখতে আদেশ করেন।’ (বুখারী-২০০৪, মুসলিম-১১৩০)।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) ইহুদিদের ব্যতিক্রম করতে বলেছেন। যেহেতু আশুরার দিন ইহুদিরাও রোজা রাখে। তাই তাদের ব্যতিক্রম স্বরুপ ১০ মহররমের সাথে আরো একদিন মিলিয়ে দুটি রোজা পালন করা। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, ‘আমি যদি আগামী বছর বেঁচে থাকি তাহলে মহররমের ৯ এবং ১০ দুদিনই রোজা রাখবো।’ (সহিহ মুসলিম: ১৯১৬)

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) আরো বলেন-
‘আশুরার দিনের রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশা করি, তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের পাপ ক্ষমা করে দেবেন।’ (সহিহ মুসলিম : ১৯৭৬)

‘রমজানের রোজার পর মুহাররম মাসের রোজা সর্বোত্তম।’ (মুসলিম-১১৬৩)

‘মুহাররম হলো আল্লাহ তা‘আলার (নিকট একটি মর্যাদাবান) মাস। এই মাসে এমন একটি দিন আছে, যাতে তিনি অতীতে একটি সম্প্রদায়কে ক্ষমা করেছেন এবং ভবিষ্যতেও অপরাপর সম্প্রদায়কে ক্ষমা করবেন।’ (তিরমিযী-৭৪১)

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে আল্লাহর কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া আদায়ের মাধ্যমে এবং নেক আমল ও রাসুল (সাঃ) এর প্রদর্শিত পন্থায় বরকতময় এই মহররম মাস ও পবিত্র আশুরা পালন করার তাওফিক দান করুন।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

ăn dặm kiểu NhậtResponsive WordPress Themenhà cấp 4 nông thônthời trang trẻ emgiày cao gótshop giày nữdownload wordpress pluginsmẫu biệt thự đẹpepichouseáo sơ mi nữhouse beautiful