গ্রাহকের ৩৫ লক্ষ টাকা নিয়ে উধাও নবজীবন মাল্টি পারপাস কো- অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি

মোঃ মাহাবুব আলমঃ  ঢাকার অদুরে শিল্প অঞ্চল সাভারের আশুলিয়ায়,  গ্রাহকের ৩৫ লক্ষ টাকা  নিয়ে উধাও, নবজীবন মাল্টি পারপাস কো- অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি মোঃ জহুরুল হক (মহসিন)।
ঢাকার সাভারে আশুলিয়ায়  বাইপাইল পশ্চিম পাড়ায়   নব জীবন মাল্টি পারপাস ‘কো-অপারেটিভ সোসাইটি  নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ জহুরুল হক (মহসিন) ও তার স্ত্রী  মোছাঃ সুলেখা,  গ্রাহকদের অধিক লাভের প্রলোভন দিয়ে ৩৫ লক্ষ  টাকা আত্মসাৎ করে সমিতির অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে গেছেন। এতে প্রায় শতাধিক নিরীহ ও দরিদ্র গ্রাহক তাদের জমানো কষ্টার্জিত টাকার শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা, তারা সকলেই গার্মেন্টস শ্রমিক ।
তাদের অভিযোগ, পাওনা টাকা চাইতে গেলেই উল্টো তাদের ওপর হামলা করেছেন ও মিথ্যা মামলা করার হুমকি দেন,  টাকা আত্মসাৎকারী
মোঃ জহুরুল হক (মহসিন)। জানা গেছে, মোঃ জহুরুল হক (মহসিন)। টাঙ্গাইল জেলার, নাগরপুর উপজেলার , বেকড়া গ্রামের, মৃত্যঃ গোলাপ খানের ছেলে।   ২০০৯ সালের ৩  অক্টোবর, সাভার উপজেলা সমবায় কার্যালয় থেকে ‘ নব জীবন মাল্টি পারপাস ‘কো-অপারেটিভ সোসাইটি নিবন্ধন নেন। যার রেজিষ্ট্রেশন নং ০০২৯০, এই সমিতির সভাপতি হন  জহিরুল, ও তার স্ত্রী মোছাঃ সুলেখা বেগমকে করেন সহ-সভাপতি , মোঃ রতন আলীকে, সেক্রেটারি,  রতন মানিকগঞ্জ জেলার,শিবালয় থানার,  মহাদেবপুর দুবুলিয়া গ্রামের, মৃত্যঃ তফছের আলীর ছেলে।
বেতন ভুক্ত কর্মচারী ও কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পালন করতেন সেলিম। মোঃ সেলিম,  নীলফামারী জেলার, কিশোরগঞ্জ থানার, উওর বড়ভিটা গ্রামের,  মৃত্যঃ মোফাজ্জল হোসেন এর ছেলে।কোষাধ্যক্ষঃ সেলিম  জানান, আমি নবজীবন মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি,  বেতন ভুক্ত কর্মচারী হিসাবে দীর্ঘ দিন যাবত কাজ করে আসছিলাম। এই সমিতিতে অনেক নিরীহ মানুষ, মাসিক, ও দৈনিক, ডিপিএস ও সঞ্চায় করে। সদস্যদের টাকা আমি নিয়মিত কালেকশন করে,  নবজীবন মাল্টি পার পাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির সভাপতি জহিরুল,  সহ-সভাপতি  সুলেখা ও  সাধারণ সম্পাদক  রতনের কাছে নিয়মিত বুঝিয়া দেই।
সদস্যদের মধ্যে অনেকের মেয়াদ পূর্ন হয়ে গেছে। সদস্যদের উক্ত ডিপিএস ও সঞ্চায়ের টাকা গত ১৮/০৬/২০১৯ইং তারিখে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সে টাকা না দিয়ে,আমাকে হিসাব  বুঝে না দিয়ে, কিছু না বলে স্থায়ী ঠিকায় চলে যায়।  সভাপতি প্রতিষ্ঠানের সকল টাকা পয়সা প্রভাব খাটিয়ে নিয়ে যায়। এবং সেই টাকা দিয়ে বাইপাইল মৌজায় ৩০ লক্ষ টাকা দিয়ে  ৫ শতাংশ জমি কিনে, বাড়ি তৈরী  করে ভাড়া দেয়।
সভাপতির সাথে মুটোফোনে যোগাযোগ করিলে গ্রাহকের  পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার  কথা বললে তিনি বলেন,  সমিতির টাকা দিয়ে যে বাড়ি তৈরী করেছি,  সেই বাড়ি বিক্রি করে সকল সদস্যের  টাকা পরিশোধ করিব।
তারপর থেকে তিনি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন, পরবর্তী আবার ফোনে যোগাযোগ  করলে,  তিনি উল্টো পালটা  কথা বার্তা সহ বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভিতি ও প্রান নাশের হুমকি দেন।
পরে তার বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করিলে,  গত   ০৭/০৮/২০১৯ ইং তারিখে কিছু টাকা প্রদান করেন। ও বাকি টাকা দেওয়ার অঙ্গিকার  করিয়া ২২/০৯/২০১৯ ইং তারিখ পর্যন্ত সময় নেন।  এবং পরবর্তী সেই সময় পেরিয়ে গেলে তিনি  দুই জন প্রতিবেশির মাধ্যমে ২৮/০৯/২০১৯ ইং পর্যন্ত সময় নেন।
আবার সেই সময় পেরিয়ে গেলে ওনাকে গ্রাহকরা ফোন দিলে আর ফোন ধরেনা। একপর্যায়ে ফোন ধরে বলেন, তিনি সমিতির কোনো টাকা পরিশোধ করিবেন না। এবং টাকার বিষয় নিয়ে কেউ বাড়া-বাড়ি করলে, দুই লক্ষ টাকা খরচ করিয়ে গুন্ডা  ভাড়া করে সকলকেই মেরে ফেলার হুমকি দেন। সভাপতি না থাকায় সকল সদস্যের চাপের মুখে পরে যান  সেলিম।
 পরে সেলিম বাদি হয়ে ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ইং তারিখে,  সভাপতি সহ ২ জনের  বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় প্রতারণার  মামলা দায়ের করেন।  আসামীরা  হলেন,
 (১) জহিরুল ইসলাম (মহসিন) সভাপতি
(২)মোঃ রতন আলী,  সাধারণ সম্পাদক
(৩) সুলেখা বেগম, সহ-সভাপতি
এ বিষয়ে, গত১১ ডিসেম্বার২০১৯ ইং তারিখে   ১০ জন সদস্য  বাদী হয়ে, আশুলিয়া থানায় প্রতারণা মূলক  পৃথক একটি  মামলা দায়ের করেছেন।  মামলার পর থেকেই বিবাদীরা সকলেই পলাতক রয়েছেন।
গত ৫ অক্টোবর ২০২০ইং তারিখে, ১ নং বিবাদি মহসিন, বাইপাইল মৌজার  জমি বিক্রি করার জন্য আসিলে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে  আশুলিয়া থানা পুলিশ উপ-পরিদর্শক
(এস আই)  হারুন অর রশিদ, এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে   তাকে গ্রেফতার করে আদালতে  পাঠিয়েছেন । মামলাটি চলমান রয়েছে।
ভুক্তভোগী নূরজাহান বলেন, প্রতি মাসে ১০০০ হাজার টাকা ৩ বছর মেয়াদি জমা রাখতাম,
নব জীবন মাল্টি পারপাস ‘কো-অপারেটিভ সোসাইটিতে। পরে টাকা চাইতে গেলেই বিভিন্ন টালবাহানা করতেন।
নাম বলতে অনিচ্ছুক, মহসিনের  এক প্রতিবেশী বলেন। মহসিন শুধু আশুলিয়ায় না সে গ্রামের বাড়িতেও বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিভিন্ন লোভ লালসা দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কয়েক লক্ষ টাকা। সে প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার  সাহস পাননা। টাকা ফেরত চাইতে গেলে বিভিন্ন হুমকি দামকি দিয়ে দাবিয়ে রাখেন।
ভুক্তভোগীরা  আরও জানান, ২০০৯ সালে নিবন্ধন নিয়ে আশুলিয়ার বাইপাইল পশ্বিম পাড়া এলাকায়, টাঙ্গাইল জেলার, নাগরপুর উপজেলার , বেকড়া গ্রামের, মৃত্যঃ গোলাপ খানের ছেলে,মোঃ জহিরুল হক (মহসিন) নবজীবন মাল্টি পারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির পরিচালনায় শুরু করেন।  কখনো ঘর ভাড়া নিয়ে আবার কখনো নিজ বাসায় পরিচালনা করতেন কার্যক্রম।
তবে বিগত ২০১৯ সালের  জুন মাসে প্রায় ১  শতাধিক গ্রাহকের প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার সঞ্চয় নিয়ে হঠাৎ পালিয়ে যায় মহসিন। টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় এখন দিশেহারা আর হতাশায় আছি আমরা গ্রাহকরা।