স্বরূপকাঠিতে পারিবারিক সমাধী ভেঙ্গে ও নলকূপ উপড়ে ফেলে রাস্তা নির্মান ; চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

হযরত আলী হিরুঃপিরোজপুরের স্বরূপকাঠির জলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আশিষ কুমার বড়াল ও তার অনুসারিদের বিরুদ্ধে রাস্তা নির্মানের নামে গাছ কাটা, পারিবারিক সমাধি ভেঙে ফেলা, ও গভীর নলকূপ উপড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার জলাবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব জলাবাড়ী গ্রামের মৃত রতন লাল মিস্ত্রীর বিধবা স্ত্রী সুবাষিনী রায় (৬৩) ওই অভিযোগ করেন। চেয়ারম্যান ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের হুমকিতে নিরাপত্তা চেয়ে রোববার রাতে থানায় সাধারন ডায়রি করেছেন সুভাষিনী রায়।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে সুবাষিনী রায় জানায়, তার ওই বাড়িতে তিনি একাই থাকেন কিছুদিন পূর্বে তিনি বরিশালে তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গেলে তার অবর্তমানে গ্রাম্য রাস্তা নির্মানের নামে ইউপি চেয়ারম্যান আশিস বড়াল তার লোকজন দিয়ে সুভাষিনী রায়ের জমিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ১৮ টি গাছ কেটে বাড়ীর পাশের খালে একটি কাঠের পুল নির্মান করে সেখানে একটি রাস্তা নির্মানের ঘোষনা দেন। বাড়িতে ফিরে সুবাষিনী গাছ কাটার প্রতিবাদ করলে চেয়ারম্যান রাস্তা নির্মানের নামে ওই বিধবার পারিবারিক সমাধীতে থাকা তার স্বামি, শশুর ও শাশুড়ির সমাধী ভেঙ্গে ফেলে। বিষয়টি ওই বিধবা এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তি ও সাংবাদিকদের জানালে চেয়ারম্যান আরো ক্ষীপ্ত হয়ে গ্রাম পুলিশ অসিম শিউলি,পলাশ মিস্ত্রি, শিশির মল্লিক ও রঞ্জিত মল্লিক সহ তার সাঙ্গপাঙ্গদের দিয়ে ওই বিধবার গভীর নলকূপটির পাইপ মাটির গভীর থেকে কেটে সেটিকে উপড়ে ফেলে। এসময় চেয়ারম্যান ওই বিধবাকে তার পারিবারিক মন্দির সরিয়ে নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশ দেন। অন্যথায় বিধবাকে জীবন নাশের হুমকি দেয়া হয় বলে জানান ওই বিধবা।
খবর পেয়ে শনিবার রাতেই ইউএনও মো. মোশারফ হোসেন, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ-কাউখালী সার্কেল) মো. রিয়াজ হোসেন (পিপিএম) ও নেছারাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) শেখ আউয়াল কবির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এ ব্যাপারে জলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আশিষ কুমার বড়াল জানান, জনগনের স্বার্থেই ওখানে রাস্তা নির্মানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সমাধী স্থানান্তর করার বিধান আছে জানিয়ে তিনি বিধবাকে প্রাননাশের হুমকি দেয়াকে অস্বীকার করেন।
সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (নেছারাবাদ-কাউখালী সার্কেল) মো. রিয়াজ হোসেন জানান (পিপিএম) জানান, ঘটনা শোনা মাত্রই তাৎক্ষনিক আমার ওই বিধবার বাড়িতে গিয়েছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ টহল রাখা হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউএনও মো. মোশারফ হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা নির্মানের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওখানে সরকারি কোন জমি আছে কিনা সেটা দেখে আমরা সেই জায়গায় রাস্তা করা যায় কিনা সেটা চেষ্টা করব।