সাতক্ষীরার পল্লীতে স্কুল ছাত্র খুন, আটক ৪

স.ম. আব্দুল ওয়াহাবঃ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ঝিটকি গ্রামের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হৃদয় মন্ডল হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের পিতা ভ্যানচালক বিকাশ মন্ডল বাদি হয়ে কারও নাম উল্লেখ না করে শুক্রবার রাতেই থানায় এ মামলা দায়ের করেন। এদিকে, পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শুক্রবার দুপুর ১২টায় আটককৃত ছয় জনের মধ্যে ঝিটকি গ্রামের ইসমাইল হোসেন, তার স্ত্রী মারিফ, তাদের ছেলে শিশু আল আমিন, শিশু আল মাসুদ ও কওছার আলীর ছেলে আলমগীর হোসেনকে আটক করেন। একইভাবে নিহতের চাচাত ভাই তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সৌমিক মন্ডকে শুক্রবার রাত ৯টায় আটক করা হয়। তাকে সন্দিগ্ধ হিসেবে আটক রেখে স্বজনদের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য অভিভাবকের স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে ঝিটকি গ্রামের আব্দুর রশিদের বাড়ির ভাড়াটিয়া আশাশুনি উপজেলা সদরের আব্দুল জলিলের ছেলে আল আমিনকে শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় থানা থেকে ছড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আটককৃতদের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে তার ছেলে আল আমিন ও মাসুদের সঙ্গে খেলাধুলার এক পর্যায়ে হৃদয়ের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এ বিরোধের এক পর্যায়ে মাসুদ ও আল আমিনের আঘাতে হৃদয় মাটিতে লুটিয়ে পরে। এ সময় হৃদয়কে দু’ভাই মাটিতে চেপে ধরার এক পর্যায়ে সে মারা যায়। বিষয়টি তাদের মা মারিফা জানার পরও প্রশাসন বা কাউকে না জানিয়ে লাশ গোপন করার চেষ্টা করে। পরিকল্পিতভাবে শুক্রবার সকালে শামুক কুড়ানোর গল্প করে হৃদয়ের লাশ দেখার গল্প লোকের কাছে বলে মারিফা। এরপর পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সূত্রটি আরো জানান, ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় বাবা বিকাশ মন্ডল বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে কারও নাম উল্লেখ না করেই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় হৃদয়কে হত্যার ঘটনায় ইসমাইল হোসেনের পরিবার ও একই গ্রামের আলমগীর হোসেনের উপর সন্দেহের কথা উল্লেখ করা হয়। খেলাধুলার এক পর্যায়ে মারপিট করলে ও মাটিতে চেপে ধরলে হৃদয় মারা যায় বলে আল আমিন ও তার সহোদর মাসুদ পুলিশের কাছে স্বীকার করেন। এছাড়া মা মারিফা বাড়িতে এলে তাকে ঘটনা জানায় বলে দু’সন্তান পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দেয়। সে অনুযায়ী হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আল আমিন ও তার ভাই মাসুদকে গ্রেপ্তার এবং বিষয়টি জানার পরে পুলিশকে না জানিয়ে তথ্য গোপন করার অভিযোগে মারিফাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে শনিবার বিকেলে তিনজনকে আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। এছাড়া আটককৃত সৌমিক মন্ডলসহ চারজনকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত : বৃহস্পতিবার বিকেলে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝিটকি গ্রামের ইসমাইল হোসেনের বাড়িতে পেরেক কিনতে যায় একই গ্রামের বিকাশ মন্ডলের ছেলে ঝিটকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হৃদয় মন্ডল ও তার কাকাত ভাই সৌমিক মন্ডল। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌমিক ফিরে এলেও ফেরেনি হৃদয়। এর পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে মসজিদ ও মন্দির থেকে করা হয় মাইকিং। এক পর্যায়ে শুক্রবার সকালে ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী মারিফার দেখা মতে তাদের বাড়ির পাশে নূর মোহাম্মদের ধানক্ষেত থেকে পুলিশ হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করে।