লালমনিরহাটের তিস্তায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ, গাছ রোপণ করলেন ডিসি

শেখ রনদ সিমান্তঃ বর্ষা আসার আগেই তিস্তার ভয়াবহ ভাঙনের কবলে পড়েছে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার জামিরবাড়ি এলাকা। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে রাস্তা, ফসলি জমি সহ জনবসতি।
সরকারি উদ্যোগ না থাকায়  ভাঙন রোধে বালু দিয়ে ৫শ’ মিটার বাঁধ নির্মাণ করেছিলো এলাকাবাসী। আর ওই বাঁধের রাস্তাটি টেকসই রাখতে ১ হাজার গাছ রোপণ করেছে জেলা প্রশাসক আবু জাফর।
কালীগঞ্জ  উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের শৌলমারি চরের জামিরবাড়ি এলাকার নির্মিত বাঁধ পরিদর্শন করেন লালমনিরহাট জেলা প্রসাশক আবু জাফর। এ সময় দেশীয় ফলদ, বনজ ও ঔষুধি গাছের চারাসহ ১হাজার গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রবিউল হাসান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর হোসাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) ফেরদৌস আহমেদসহ স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রমুখ।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছর নদী ভাঙতে ভাঙতে অনেক কিছু গ্রাস করে সর্বশান্ত করে ফেলে ওই এলাকার মানুষদের। কিন্তু প্রসাশনের লোকজন কোনো খোঁজ-খবর রাখেন না। এমনকি পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ প্রতিবছর বর্ষা এলেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এসে ছবি তুলে নিয়ে যান, আশ্বাস দেন কিন্তু তা আজও বাস্তবে দেখা মিলেনি বাঁধের।
সর্বোপরি এবারের ভাঙন বেশ চিন্তায় ফেলেছে গ্রামবাসীকে। তাই নিজ উদ্যোগে ভাঙন রোধে বাঁধ নির্মাণে এলাকাবাসীরা নিজেই নেমে পড়েছেন। তবে বাঁধ নির্মাণ অর্ধেক হওয়ার পর উপজেলা প্রসাশন দেড়টন জিআর বরাদ্ধ দেন।
ওই এলাকার সুফিয়ান রহমান জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের দেখা না পেয়ে গ্রামের যুবকরা তিস্তার নদীতে এই বাঁধ নির্মাণ করেছে। আর ওই বাঁধ নির্মিত হওয়ার পর ডিসি সাহেব গাছ রোপণ করলেন। বরাদ্ধ দিলে তিস্তার বুকে চরঞ্চলের মানুষ রাস্তা তৈরি করে দিতে পারবে বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, তিস্তার বাঁধে গাছ দিয়েছি, পাকা একটি রাস্তাও দিয়ে দিবো। তবে গাছের যত্ন নিতে হবে। তবেই এই তিস্তার বাঁধটি রক্ষা পাবে। শুধু বাঁধ নয়, রক্ষা পাবে অনেক গ্রাম।