রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সমন্বিত বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও ভাবনা প্রয়োজনঃ ইয়ুথ পলিসি ফোরাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  দেশে চলমান শরণার্থী সমস্যা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সমন্বিত বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও ভাবনা প্রয়োজন বলে মনে করেছে ইয়ুথ পলিসি ফোরাম।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত তরুণ প্রজন্মের নীতি গবেষনামূলক এই প্রতিষ্ঠানটির ‘রোহিঙ্গা এডভোকেসি প্রোগ্রাম’ শীর্ষক কর্মসূচির উদ্বোধনী ওয়েবিনার সেশনে অংশগ্রহণকারী বক্তারা এই মন্তব্য করেন। ‘রোহিঙ্গা এডভোকেসি প্রোগ্রাম’ শীর্ষক কর্মসূচির মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে করনীয় বিষয়ে আলোচনা করার লক্ষ্যে একটি বছরব্যাপী কর্মসূচি শুরু করেছে ইয়ুথ পলিসি ফোরাম।

ইয়ুথ পলিসি ফোরামের আয়োজনে চলমান রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট নিরসনে অগ্রভাগে থেকে কাজ করা একাধিক দেশী ও বিদেশী ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে আয়োজিত এক ওয়েবিনারে জমকালোভাবে কর্মসূচিটির উদ্বোধনী ঘোষনা করা হয়। উদ্বোধনী ওয়েবিনার সেশনটির মূল আলোচ্য বিষয় ছিলো ‘রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিশ্বব্যাপী এর সাড়া’।

ওয়েবিনার সেশনে বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য স্টিফেন কিনক, ইউএনএইচসিআর এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্টিভেন করলিস, যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডক্টর মুশফিক মোবারাক এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহযোগী ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ।

ওয়েবিনারে স্টিফেন কিনক রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যথাযথ ভূমিকা পালন পালন করছে কিনা তা নিয়ে আলোচনা করেন। তার মতে, মিয়ানমার নিশ্চিতভাবেই গণহত্যা করেছে এবং এর প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার জন্য তিনি গাম্বিয়ার প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি নেদারল্যান্ড এবং কানাডার কথাও উল্লেখ করেন, যারা এই গণহত্যার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মহলে কথা বলেছে।

স্টিভেন করলিস ইউএনএইচসিআর এর প্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্র গুলোর সার্বিক অবস্থা নিয়ে কথা বলেন। এবং রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে তার প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন।

ব্যারিস্টার শাহ আলী ফরহাদ তার আলোচনায় বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বর্তমান কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। তার মতে, রোহিঙ্গা সংকট আন্তর্জাতিক মহলে আগের মতো আর গুরুত্ব পাচ্ছেনা এবং তাদের প্রত্যাবসান নিয়ে বাংলাদেশের যতটুকু তৎপরতা রয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর ততটা নয়।

ডক্টর আহমেদ মুশফিক মোবারক তার সহকর্মীদের নিয়ে মায়ানমারের প্রধান খাদ্য চালের ফলন এবং দাম ইত্যাদি নিয়ে গবেষনা করে রোহিঙ্গা সংকটকে একটি অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার চেষ্টা করেন।

কোভিড সংকট, বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সরকার পরিবর্তন সহ বিগত তিন বছরে বিশ্ব রাজনীতির পট পরিবর্তনে রোহিঙ্গা ইস্যুর মতো শতাব্দীর সবচেয়ে বড় মানবিক ইস্যু কি কোনভাবে মূল আলোচনা থেকে সরে এসেছে কিনা বক্তারা তা নিয়ে আলোচনা করেন। মায়ানমার ও বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ হিসেবে পারস্পরিক কূটনৈতিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা পূনর্বাসন নিয়ে বাংলাদেশের পাশাপাশি দাতা দেশ ও সংস্থাগুলোর ভাবনা এবং এই সমস্যার আসন্ন সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে বক্তারা নিজ নিজ মত প্রকাশ করেন।

ওয়েবিনার সেশনটির সঞ্চালনায় ছিলেন ইয়ুথ পলিসি ফোরামের কনটেন্ট ও সম্পাদকীয় শাখার প্রধান মাসতুরা তাসনিম।