পাইকগাছায় টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাতে নদ-নদীর বৃদ্ধি পেয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

ইমদাদুল হকঃ পাইকগাছায় বৈরি আবহাওয়া, টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত,ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ ও অ-স্বাভাবিক নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ওয়াপদার বেড়িবাঁধ উপছে পানি পোল্ডারে প্রবেশ করায় সব মিলিয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপজেলার সাধারণ মানুষের জনজীবন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে গত কয়েকদিনের বিরামহীন বৃষ্টিপাতে তলিয়ে গেছে
 উপজেলার ১০ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল।
চরম দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ।বৃষ্টিপাতের ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। কয়েকদিন কাজ করতে না পারায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটাই দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর শ্রেণির মানুষ।গদাইপুর গ্রামের ভ্যানচালক মামুন জানান, তার কাজের উপর পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়। বৃষ্টিপাতের কারণে গত কয়েকদিন  ভ্যান গাড়ী নিয়ে বের হতে পারিনি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকটাই দুর্ভোগে রয়েছেন বলে তিনি জানান।  টানা বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ফসলের ক্ষেত,মৎস্য ঘের ও নার্সারি মালিকদের।
অপরদিকে গত তিন দিনে আমাবশ্যার প্রবল জোয়ারের পানিতে উপজেলার ৪ ইউনিয়নের ৭ স্থানে ওয়াপদার বাঁধ ভেঙ্গে ও ওয়াপদার ভেড়িবাঁধ উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে মৎস্য ঘের, ফসলের ক্ষেত ও কাচাঁ বাড়ী-ঘর।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবো’র উদ্যোগে সাময়িকভাবে বাঁধ মেরামত করা হলেও বেতবুনিয়ার আবাসন প্রকল্পের ৫শতাধিক পরিবার পানির মধ্যে বসবাস করছে। উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নে বেতবুনিয়া আবাসন ও গুচ্ছগ্রাম পানিতে থৈ থৈ করছে। একই ইউনিয়নের টেংরামারী ও ভাঙ্গা হাড়িয়ার ওয়াপদার বাঁধ ভেঙ্গে গত বুধবার ৫ হাজার বিঘা চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে ফসল ও মাছের ব্যাপক ক্ষতি হয়। যা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের উদ্যোগে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত সহস্রাধিক লোক ভাঙ্গনরোধ করলেও বৃহস্পতিবার দুপুরে কিছু অংশ ভেঙ্গে যায়। যা বিকেলে ভাটার সময় স্থানীয় চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক ৪শতাধিক লোক নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে বাঁধটি মেরামত করে। এ সময় শতাধিক লোক টেংরামারী পুরাতন গেট সংলগ্ন ওয়াপদার ভাঙ্গনও মেরামত করে।
অন্যদিকে উপজেলার অধিক দূর্যোগ ঝুঁকিপূর্ন দ্বীপ বেষ্টিত দেলুটি ইউনিয়নে ভয়াবহ ঘূর্নিঝড় আম্পানের তান্ডবের পর তৃতীয় বার আবারো ২০ নং ও ২০/১ নং পোল্ডারের সীমান্তবর্তী চকরি বকরি বদ্ধ জলমহালের দক্ষিন প্বার্শের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে তিনটি গ্রামের আংশিক অংশ প্লাবিত হয়ে ঘর বাড়ী,মৎস্য খামার,গবাদীপশু,ফসল ও রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে।গেউয়াবুনিয়া,পারমধুখালী,চকরিবকরি তিনটি গ্রামের প্রায় ১০০ শত পরিবার বানভাসী হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।শুক্রবার  ইউনিয়নের চকরি-বকরি বদ্ধ জলমহল ভেঙ্গে ও গেওয়াবুনিয়ার ওয়াপদার বাঁধ উপচে জোয়ারের পানি এলাকায় প্রবেশ করে। যাতে এলাকায় ব্যাপক মাছ ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি  হয়েছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিপন মন্ডল বলেন, দ্বীপ বেষ্টিত দেলুটি সব সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার। বৈরী আবহাওয়া এবং অতিজোয়ারে কয়েকদিন পূর্বে এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় নির্মানকৃত চকরিবকরি বদ্ধ জলমহালের উত্তর দিকের প্রতিরক্ষা বাঁধটি আবারো আজ শুক্রবার ভেঙে যায়।
দেলুটি ইউনিয়নের ২০ নং ও ২০/১ নং পোল্ডারের চকরিবকরি বদ্ধ জলমহালের দূর্বল প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বার বার অত্র এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।তাই উক্ত স্থানে দ্রত সময়ের মধ্যে স্থায়ী ও টেকসই ভেড়িবাঁধ নির্মানের ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি।
বুধবার গদাইপুরের কচুবুনিয়া ও বৃহস্পতিবার লতার কাঠামারীর ওয়াপদার রাস্তা জোয়ারের পানি উপচে শত শত বিঘার চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে বাঁধ দিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করেন। এসও ফরিদ উদ্দীন বলেন, টেকসহি বাঁধ না দিলে এসব উপকূলীয় অঞ্চল ঝুঁকির মধ্যে থাকবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।