পাইকগাছায় কয়েকদিনের জোয়ারের পানিতে ভাসছে গ্রামের পর গ্রাম;বিশুদ্ধ পানি ও পশু খাদ্যের চরম সংকট

ইমদাদুল হকঃ মহামারি করোনা ভাইরাসের মধ্যে ও আম্ফানের ক্ষত কেটে না উঠতেই অমাবস্যার প্রবল জোয়ারের পানিতে খুলনার পাইকগাছার ৫টি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে।
শিবসা নদীর পানির তোড়ে পাউবো’র বাঁঁধ ভেঙ্গে ও উপছে পড়া পানিতে গ্রামের পর গ্রাম তলিয়ে গেছে। ভেঙ্গেছে বাড়ি ঘর,তলিয়ে গেছে হাজার হাজার বিঘা চিংড়ী ঘের, পুকুর, জলাশয়, আমন ধানের বীজতলা ও ফসলের ক্ষেত।
 উপজেলার উপকুলবর্তী সোলাদানা, লতা দেলুটি ও গড়ইখালী ইউনিয়ন। প্রতিটা দুর্যোগে এসব এলাকা মারাত্মক ভাবে আক্রান্ত হয়। চলমান অমাবস্যার প্রবল জোয়ারের হাত থেকেও রেহাই পাইনি এসব এলাকা। ভেঙ্গেছে সোলাদানার ভাঙ্গাহাড়িয়ার গেটের মুখ, টেংরামারি ও বেতবুনিয়া গুচ্ছগ্রাম।22.08.20-1
পাউবো’র বাঁধ উপচে প্লাবিত হয়েছে সোলাদানার পতনের আবাসন, গড়ইখালীর বাজার, আবাসন ও আশ্রায়ন কেন্দ্র। দেলুটির চকরি-বকরি বদ্ধ জলমহলের বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে গেওয়াবুনিয়া, পারমধুখালী ও চকরি বকরি গ্রাম। গদাইপুরের কচুবুনিয়া অঞ্চল ও লতার কাঠামারি, বাইনচাপড়া ও হাড়িয়া গ্রাম। গড়ইখালীর আবাসন ও আশ্রায়ন কেন্দ্রে দেড়’শ পরিবার জলবদ্ধতার শিকার। সমস্ত এলাকা শিবসা নদীর তীরে অবস্থিত। নদীর পানিতেই সয়লাব হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার বিঘা চিংড়ী ঘের, পুকুর ও জলাশয়, শ’শ’ বিঘা আমনের বীজতলা, ফসলের ক্ষেত। আবাসন, আশ্রায়ন কেন্দ্র ও গুচ্ছ গ্রামের মানুষ জলবদ্ধতার মধ্যে মানবের জীবন কাটাচ্ছে। কোথাও কোথাও দেখা দিয়েছে সুপেয় পানির সংকট। গো খাদ্যে চরম খাদ্যের অভাব দেখা দেয়ায় গবাদি পশু পাখি নিয়ে জলমগ্ন মানুষগুলো পড়েছে মহাবিপদে। এব্যাপারে সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক ও দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল বলেন, ঘুর্ণিঝড় আম্ফানের ক্ষত কেটে ঊঠতে না উঠতেই আবার এ দুরাবস্থা। বাড়ী ঘর, রাস্তা ঘাট সব কিছুই পানিতে নিমর্জিত থাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। টেকসই বেড়ি বাঁধ ছাড়া এ উপকুল অঞ্চল রক্ষা করা কোন ভাবেই সম্ভব না। পাউবো উপ-প্রকৌশলী ফরিদ উদ্দীন জানান, অর্থ সংকটের কারণে টেকসই বেড়িবাঁধ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা জেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বলেন, আমি অধিকাংশ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানি, বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট চাল সহ বিভিন্ন প্রকার খাদ্য সামগ্রী দুর্গতদের মাঝে দিয়েছি। টেকসই বাঁধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেছি।