পশুর হাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড়, গরুর সংকটে দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানীর পশু হাটগুলোতে হঠাৎ করে ক্রেতা বেড়ে গেলেও গরু-ছাগলের সরবরাহ অনেক কমে গেছে। ফলে গত কয়েকদিন ধরে সস্তা থাকা গরু-ছাগলের দাম হঠাৎ করেই অনেকটা বেড়ে গেছে। শুক্রবার সকাল থেকে কোরবানীর পশু কিনতে যারা হাটে গেছেন, তাদের অনেকেই এক হাট থেকে আরেক হাটে ঘুরছেন। কেউ আবার চড়া দামেই পছন্দের গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন।

গরুর বিক্রেতারা বলছেন. গত কয়েকদিন ধরে পাইকাররা ঢাকার হাটগুলোতে গরু নিয়ে এসেও ক্রেতার অভাবে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। গত বুধ-বৃহস্পতিবারও রাজধানীর হাটগুলোতে গরু-ছাগলের দাম ছিল তুলনামুলকভাবে বেশ কম। অনেক খামারী ও পাইকার গরু বিক্রি করতে পারছিলেন না। ফিরিয়ে নিতে বাড়তি ব্যয়ের ভয়ে অনেকে কম দামে বিক্রি করছিলেন।

কম দামের কারণে গত বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকায় গরুর সরবরাহ কমে গেছে। গত রাত থেকে মহাসড়কগুলোতে তীব্র যানজট সৃষ্টি হওয়ায় গরুবাহী ট্রাকগুলো ঢাকায় ঢুকতে না পারাও গরু সংকটের কারণ বলে জানান তারা।

শুক্রবার সকাল ৭টায় উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরে গরু কিনতে যান রূপায়ন গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সরোয়ার আলম। তিন দিন আগেও একই হাটে গরু কিনতে গিয়েছিলেন তিনি। সেদিন হাটে অনেক গরু থাকলেও ক্রেতা ছিল কম। আজ তার উল্টো চিত্র দেখেনে।

সরোয়ার আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ‘সকালে হাটে গিয়ে দেখি ১০-১২ টা গরু আছে। ক্রেতার সংখ্যা ২৫০-৩০০ এর মতো। ক্রেতার বিপুল ভিড় আর সরবরাহ সংকটের কারণে বিক্রেতারা দাম চাচ্ছেন অনেক বেশি। মঙ্গলবার যে গরু ৬০-৬৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে, শুক্রবার তা ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না।’

বাধ্য হয়েই প্রায় তিন মন ওজনের একটি গরু ৯০ হাজার টাকায় কিনতে বাড়ি ফিরছি, হাসিলসহ দাম পড়েছে ৯৫ হাজার টাকা।

ভোরে গাবতলীর হাটে গরু কিনতে গিয়ে চমকে যান আদাবরের বাসিন্দা মনজুর হাসান নিজামী। হাটের শতকরা ৭০ ভাগ শেডই খালি, কোন গরু নেই। বাকি ৩০ ভাগ শেডে গরু থাকলেও সেখানে ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর সংকট ছিল। পরে হাটের বাইরে নদীর পাড় থেকে ৭১ হাজার টাকায় একটি ছোট গরু কিনে দুপুরে বাড়ি ফেরেন।

বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে গাবতলী হাট থেকে কোরবানীর পশু কিনেন তিনি। এবারের মতো গরু সংকট আগে কখনও দেখেননি।

‘অন্যবার হাসিলের ঘরগুলোতে লোকজনের খুবই ব্যস্ততা থাকতো। তাদের কথা বলার সময় থাকতো না। গরু না থাকায় আজ সকাল ১০-১১ টা পর্যন্ত গাবতলী হাটের অর্ধেক হাসিল ঘর বন্ধ ছিল।”

দুপুরের দিকে কিছু কিছু গরু হাটে আসছিল জানিয়ে মনজুর হাসান বলেন, “গৃহস্থরা ৪-৫টি করে গরু নিয়ে ট্রাকে আসা মাত্রই ঢাকার পাইকাররা একসঙ্গে সব কিনে ফেলছিল। পরে তারা আবার বেশি দামে বিক্রি করছে। ফলে হাটে একই গরু দু’বার বিক্রি হওয়ায় দামও বেড়ে যাচ্ছে।”

রাজধানীর শাহজাদপুরের সুবাস্তু নজর ভ্যালীর আরাফাত শাকিল শুক্রবার ফজরের নামাজ পড়ে আফতাবনগর হাটে গরু কিনতে গিয়ে দেখেন শত শত ক্রেতার ভিড়, কিন্তু হাটে গরু রয়েছে হাতে গোনা কয়েকটি। বৃহস্পতিবার সকালেও এই হাটে গরু কিনতে এসেছিলেন তিনি। তখন যে গরু ৮০-৯০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে দেখেছেন, আজ একই সমান গরুর দাম দেড় লাখ টাকার কাছাকাছি।

মোবাইল ফোনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে তিনি বলেন, আফতাবনগর পরে সিএনজি নিয়ে গাবতলী হাটে গিয়ে দেখি সেখানেও একই অবস্থা। শত শত ক্রেতা থাকলেও হাটে গরু কম। একেকটি গরুর পাশে ১০-১৫ জন করে ক্রেতা ভিড় করছেন। অগত্যা নির্ধারিত বাজেটেই ছোট একটি গরু কিনে নিয়ে বাসায় ফিরেন তিনি।

উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের হাটে গরুর ব্যবসায়ী সিরাজ জানান, গরুর সরবরাহ বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই কমে গেছে। সপ্তাহ জুড়ে দাম কম থাকায় লোকসানের ভয়ে ঢাকায় গরু আনছেন না পাইকাররা। শেষ মুহূর্তে ক্রেতা বেড়ে যাওয়ায় এখন দামও বেড়ে গেছে।

‘কিছুই করার নাই। সরবরাহ না থাকলে দাম বাড়বেই। গত পুরো সপ্তাহ আমরা লোকসান দিয়েছি, ক্রেতা পাইনি। শেষ সময়ে যে কয়েকটা গরু আছে, একটু বেশি দামে না বেচলে পুষাবে না’- যোগ করেন সিরাজ।