নাজিরপুরে নিখোঁজ ব্যাবসায়ীরর হাত পা বাঁধা লাশ উদ্ধার

হযরত আলী হিরুঃ পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার যুগিয়াবাজার থেকে নিখোঁজের চার দিন পর এক ব্যবসায়ীর হাত–পা বাঁধা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার দুপুরে সদর উপজেলার কালীগঙ্গা নদীসংলগ্ন মূলগ্রাম খালের মোহনা থেকে মো. মোজাফফার শেখ (৫০) নামের ওই ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের সঙ্গে ইটভর্তি বস্তা বাঁধা ছিল।

গত বুধবার রাতে ওই ব্যবসায়ী নিখোঁজ হন।নিহত মোজাফফার শেখ নাজিরপুর উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের পূর্ব যুগিয়া গ্রামের মৃত মো. লাল মিয়া শেখের ছেলে। তিনি ধানসহ বিভিন্ন পণ্যের মজুদ ব্যবসা করতেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে মোজাফফার শেখ বাড়ি থেকে ৬৫ হাজার টাকা নিয়ে বের হন। তারপর তিনি স্থানীয় যুগিয়াবাজারে যান। ওই দিন রাতে মোজাফফার শেখকে লোকজন একই গ্রামের কুমোদ হালদারের সঙ্গে দেখেছেন। তারপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। রাতে বাড়ি না ফেরায় সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি পরিবারের লোকজন। শুক্রবার নাজিরপুর থানায় তাঁর মেয়ে সোনিয়া খানম বাদী হয়ে কুমোদ হালদারকে প্রধান আসামি করে ১১ জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করেন।রোববার দুপুরে সদর উপজেলার মূলগ্রাম খালের মোহনায় একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ হাত–পা বাঁধা অবস্থায় মোজাফফার শেখের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে। তারপর মোজাফফার শেখের স্বজনেরা লাশ শনাক্ত করেন।মোজাফফার শেখের মেয়ে সোনিয়া খানম অভিযোগ করেন, স্থানীয় ৯ ব্যক্তির কাছে তাঁর বাবার ১৫ লাখ টাকা পাওনা ছিল। এ ছাড়া জমি নিয়ে দুই ব্যক্তির সঙ্গে বাবার বিরোধ ছিল। তাঁর বাবাকে অপহরণ করে সঙ্গে থাকা টাকা ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

পিরোজপুর সদর থানার উপপরিদর্শক ফারুক হোসেন বলেন, লাশটির হাত ও পা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল। লাশটির সঙ্গে ইটভর্তি একটি বস্তা বাঁধা পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে তাঁকে হত্যা করে লাশের সঙ্গে ইটভর্তি বস্তা বেঁধে নদীতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। রবিবার বিকেলে লাশের ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মনিরুল ইসলাম বলেন, মোজাফফার শেখকে অপহরণের অভিযোগে স্থানীয় থানায় একটি মামলা করা রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়ে মৃত্যুর কারণ জেনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।