নাজিরপুরে চাঁদার দাবীতে ২ শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ১

হযরত আলী হিরুঃ পিরোজপুরের নাজিরপুরে দ্বাদশ শ্রেণির এক কলেজ ছাত্রী ও দশম শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রকে অপহরণ করে নিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবির করে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে যৌন হয়রানিসহ উভয়কে বিবস্ত্র করে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে স্থানীয় কতিপয় বখাটে।জানা যায়, ছবি ও ভিডিও ধারণের সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা আহত ওই ছাত্র-ছাত্রীকে উদ্ধার করে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। এ সময় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি আহতদের হাসপাতাল থেকে তার বাসায় নিয়ে বিষয়টি মিমাংসার নামে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এ সংবাদ পেয়ে নাজিরপুর থানার পুলিশ ওই জনপ্রতিনিধির বাসা থেকে আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির ব্যবস্থা করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই কলেজছাত্রী জানান, সকালে ওই কলেজ ছাত্রী নাজিরপুর উপজেলা সদরে প্রাইভেট পড়া শেষে তার প্রতিবেশী ছোট ভাই দশম শ্রেণির ছাত্র সজিবকে সাথে নিয়ে উপজেলার শাখারিকাঠী ইউনিয়নের হোগলাবুনিয়া গ্রামে দাদার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। সকাল ৯টার দিকে ওই ইউনিয়নের গোপেরখাল নামক এলাকায় পৌঁছলে স্থানীয় ময়ূর শেখের ছেলে মনির শেখ (৪০), সঞ্জিত সিকদারের ছেলে অভিজিৎ সিকদার (২৫) ও শাখারিকাঠী গ্রামের শফিকুর রহমান মল্লিক(২৮) তাদের পথরোধ করে জোরপূর্বক পার্শ্ববর্তী একটি কলাবাগানে নিয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, সেখানে তারা তাদের দুজনের মধ্যে কী সম্পর্ক জানতে চায়। তখন ওই ছাত্রী সজিব তার প্রতিবেশী ছোট ভাই বলে জানালে তারা (বখাটেরা) তাদের দুজনকে মারধর করে এবং তাদের মধ্যে অবৈধ সম্পর্ক আছে এ কথা বলতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে জোরপূর্বক ওই দুই শিক্ষার্থীকে বিবস্ত্র করে মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করে। বখাটেরা তাদের দু’জনকে দিনভর সেখানে আটক রাখার পর তাদের অভিভাবকদের ফোন করে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এতে রাজি না হওয়ায় তাদেরকে পুনরায় মারধর করে।

এ রির্পোট লেখা পর্যন্ত আহত দুই শিক্ষার্থী নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম মুনির জানান, এ ঘটনায় জড়িত মূল আসামি মনির শেখকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। বাকিদের আটকের জন্য অভিযান চলছে।