ধন্যবাদ জানাই, পুলিশ বাহিনীকে

স.ম. আব্দুল ওয়াহাবঃ আজ দেশ ও সরকারের ভাব মূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে একটি কুচক্রী মহল মেতে উঠেছে, দেশটাকে মাদকের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করতে। তারা প্রতিনিয়ত বড় বড় মাদকের চালান দেশে প্রবেশ করার চেষ্ঠায় যখনই লিপ্ত হচ্ছে, ঠিক সেই মূহুর্তেই হাতে নাতে আটক করছে পুলিশ। পত্রিকার পাতা খুললেই, মাদক ব্যবসায়ীদের ছবিসহ দেখা যায়। মাদক ব্যবসায়ীরা যত কৌশলই অবলম্বন করুক না কেন, বর্তমানে পুলিশের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না কেউই। পাঠক সারা দেশ জুড়ে মাদক বিরোধী যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ, তাহা জনতার কাছে আজ প্রশংসনীয়। তবে হ্যাঁ জনতারও অনেক দায়িত্ব আছে। আর সেটি হলো নিকট স্থানের পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করা। তাছাড়া আমরা নিজের দায়িত্বভার কতটুকু, তাহা না ভেবে দোসারোপ করি অন্যকে।
পাঠক সমাজ আজ একবার ভেবে দেখুনতো, একটি গ্রাম কিম্বা মহল্লায় কত মানুষের বসবাস, আর তার মধ্যে অপরাধীরা সংখ্যায় কত? তাহলে আজ আমরা প্রতিবাদ না করার কারণেইতো দিন দিন সমাজে অপরাধ এর মাত্রা বেড়েই চলেছে। এর জন্য দায়ী কে? সরকার না সমাজ? দায়ী সমাজের মানুষেরা। পাঠক আরও একটু গভীরে যাই, আমরা যারা সমাজে বসবাস করি। আর যারা নারী ধর্ষণের মত ন্যাক্কারজনক কাজে লিপ্ত, মাদকে আশসক্ত, মাদক ব্যবসায়ীসহ নানা অপরাধে জড়িত। এরা কি আকাশ থেকে নেমে এসেছে। না আপনার আমার মত একটি পরিবারে মধ্যে ছিল তাদের জন্ম? অথচ তারা মাতাপিতার সুসন্তান না হয়ে আজ রুপ নিয়েছে কুসন্তান হিসাবে। তাহলে এদের অভিভাবক কি দায়ী নহে? প্রিয় পাঠক সমাজ আমাদেরকে জানা দরকার যে, বিশ্বের দরবারে আমরা গর্বিত বাঙালী জাতি হিসাবে পরিচিত।
তাছাড়া আজ দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও দেশনেত্রী শেখ হাসিনা আমাদেরকে (বাঙালিকে) নিয়ে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে বলছে, আমরা স্বাধীন দেশের গর্বিত বাঙালি জাতি। আর সেই বাঙালি জাতীয় উজ্জলময় গর্বকে ধুলায় মিশিয়ে কলংক দিয়ে মুছে দেবে বাঙালি জাতির সুনাম, সেটা কি হয়? পাঠক আমি বলবো, আমাদের যে সব সন্তানেরা অপরাধ জগৎ এ প্রবেশ করেছে, তারা তাদের সাজা ভোগ করুক এবং নতুন করে এ মানুষ সমাজে আর যেন কোন নরপশুর জন্ম না হয়। সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে, দেশের অভিভাবক মহলকে।
প্রিয় পাঠক তাইতো কবির ভাষায় বলতে হয়, ধ্বংস করো পাপের ফসল, রেখোনা কেউ জমা, সময় থাকতে তাহার কাছে চেয়ে নিও ক্ষমা। পাঠক নারী নির্যাতন করে আজ পর্যন্ত কেউ রেহাই পায়নি, আশা করি, পাবেও না। তাছাড়া আজ দেশের পুলিশ বাহিনী যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছে, ধর্ষক গ্রেফতার, মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী গ্রেফতার, চাঁদাবাজ গ্রেফতার, চোর ডাকাত, ছিন্তাইকারী গ্রেফতারসহ সমাজের সকল প্রকার অপরাধ দমনে যে সব ভূমিকা পাল করে চলেছে। সে জন্যই ধন্যবাদ জানাই পুলিশ বাহিনীকে। পাঠক সমাজ একবার ভেবে দেখুনতো, সমাজের অপরাধ দমন করছে পুলিশ, তারাওতো আমাদের সন্তান, নির্যাতিতরাও তো আমাদের সন্তান। এমনকি বিচারকবৃন্দরাও আমাদের সন্তান। পার্থক্য এটাই অপরাধীরা কুসন্তান। এরা দেশ ও জাতির শত্রু, এদেরকে নির্মূল করতে হলে পুলিশকে সঠিক তথ্য প্রদান করা, পাশাপাশি সভ্যসমাজ গঠন করা।
প্রিয় পাঠক সমাজ, আমি জানি যেমন, কাগজ কলম, বন্ধু তিন জন। তাছাড়া কোন লেখকের এর বাহিরে কোন বন্ধু আছে বলে আমার মনে হয় না। ঠিক তেমনিভাবে যারা আজ দেশ ও সরকারের ভাবমূর্তি  ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে নানা অপরাধের জন্ম দিচ্ছে, শত্রু এরা শুধু আপনার বা আমার নহে, এরা বাংলা মায়ের শত্রু। পাঠক সমাজ এখানেও শেষ নহে বিগত ১৯৭১ সালের অনেক ঘটনাও আমার মনে আছে। সেদিন নারী নির্যাতন করেছিল পাকিস্তানীরা। তার পরিণতি কি সেটাতো ইতিহাসেই আছে। তাহলে কি ধরে নেব যে, আজ সেই পরাজিত শক্তির ঝরে পড়া কুরক্তে জন্ম হয়েছে এসব নরপশুর। তাহলে এলজ্জা রাখার জায়গাটা কোথায়? পাঠক আমি আগেই বলেছি, ১৯৭১ সালের অনেক ঘটনা আমার মনে আছে। তারই এক দৃষ্টান্ত বলছি। দক্ষিণ বঙ্গের সাতক্ষীরা জেলা সদরের মাহমুদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনুমান ৬০০ গজ পিছনেই আমার জন্মস্থান বাড়ি। আর এই বিদ্যালয়টি ছিল হানাদার বাহিনীর প্রধান অস্ত্রঘাঁটি। এখান থেকে মাত্র ৫ কিঃ মিঃ ভোমরা সীমান্ত বর্ডার। ওদের মেজর ছিল গোলাম রসুল।  উনি এক নারীকে ধর্ষণ করার চেষ্টাকালে আমার গ্রামের আঃ মজিদ নামের এক পাগল সেখানে হাজির হয়। এ সময় ঐ পাকিস্তানী মেজর পাগলের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ইচ্ছেমত লাথি মারতে থাকে, এরই মধ্যে ওই নারী কোন এক জায়গায় আত্মগোপন করে নিজেকে রক্ষা করেছিল। এরপর পাগলের উপর লাথি মেরে স্কুল পর্যন্ত যাওয়ার আগেই তার দুপা ফুলে অবাশ হয়ে যায়। এমনকি কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ঐ পাগলকে পাকিস্তানীরা বলতো ও খোদাকো পাগল হয়। পাঠক এটা ছিল রণক্ষেত্র আল্লাহ ঐ নারীকে হেফাজত করেছিল। কিন্তু এমন ধর্ষণ তারা আরো অনেক করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এদেশ ছেড়ে বিদায় হতে হয়েছে। তাই বলছি এই বাংলার মাটিতে যে সব নরপশুর জন্ম হয়েছে, তাদেরও এ মাটি থেকে বিদায় হতে হবে এটা আমার বিশ্বাস। আজ এমনই এক ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্ম দিল নরপশুরা, যে লজ্জা রাখার জায়গা নেই। আজ দেশ জুড়ে চলছে মানববন্ধন কর্মসূচি, এমন ঘটনার জন্মদাতার পিতা মাতারা কি, লজ্জা পাচ্ছে? পাঠক সমাজ আবারও কবির ভাষায় বলতে হয়। বাপভালোতো বেটা ভালো, মা ভালোতো ঝি, গাই ভালোতো বাছুর ভালো, দুধ ভালোতো ঘি। পাঠক পুলিশ বাহিনীর শুদ্ধি অভিযানকে স্বাগত জানাই, আর পাশাপাশি বলবো “সমাজে যেখানে হবে দুর্নীতি, পুলিশ কখনো করবে না, সেখানে স্বজনপ্রীতি”। আর এটাই জনতার প্রত্যাশা।