দেশে ভিন্ন নামে সরকার বাকশাল প্রতিষ্ঠা করছেঃজাফরুল্লাহ চৌধুরী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে সরকার ‘বাকশাল’ প্রতিষ্ঠা করছে বলে অভিযোগ করেছেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি জাফরুল্লাহ চৌধুরী।

গতকাল শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “এই সরকারের সকল কর্মকাণ্ড গণতন্ত্র বিরোধী। আমাদের সংবিধানে আমার কথা বলার অধিকার আছে, আমার সংগঠন করার অধিকার আছে, আমার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার আছে জনগণের কাছে। সেটা আমাকে করতে দেওয়া হচ্ছে না।”

তিনি বলেন, “দেশে আজ গণতন্ত্র নেই। আজকে ভিন্ন নামে বাকশাল দেশে প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে। এটা চলতে পারে না।” জাফরুল্লাহ বলেন, “আজকে জনগণকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। এ জাতীয় বাঁধা দেওয়ার কারণে কী হয়? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যতগুলো কাজ আপনি করছেন ক্রমেই তা ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। যেমন ধরেন- সদ্য নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে যে আইনের সংশোধনী এনেছেন- ফাঁসি। এই ফাঁসি দিয়ে পৃথিবীর কোথাও কোনো পরিবর্তন হয় নাই। এটা মধ্যযুগীয় শাস্তি।

“আপনারা পত্রিকা খুলে দেখেন, এই আইন করার আগে ও পরে একফোঁটাও অপরাধ কমেনি। বরং বেড়েছে। এখন বাড়তে বাড়তে শিশুর ওপরই হচ্ছে, স্কুলে হচ্ছে, মাদ্রাসায় হচ্ছে। এতো বড় ভুল কি করে উনি (প্রধানমন্ত্রী) করলেন?”

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “আজকের পত্রিকায় আছে- ভারত আমাদের কতটা লুণ্ঠন করেছে। গত ২০১৮ সালে ভারত বাংলাদেশ থেকে পেয়েছে ১২৮ বিলিয়ন ডলার। আর সারা মুক্তিযুদ্ধে উনাদের খরচ ১০০ মিলিয়নও হয় নাই।

“ওটা উপলক্ষ করে আজকে দেখলাম তোফায়েল (তোফায়েল আহমেদ) সাহেব বলেছেন, ‘আমার আর কিছু পাওয়ার নাই। বঙ্গবন্ধুর আহ্লাল পেয়েছি’। এটা উনার আক্ষেপের কথা। তার মতো লোক হাসিনার পাশেই থাকা উচিত। দলের রাজনৈতিক নেতাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী আলাপ করেন না, আমাদের সাথে আলাপ করবে কেন?”

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আটক দৈনিক সংগ্রাম পত্রিকার সম্পাদক আবুল আসাদ ও সদ্য গ্রেপ্তার ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর প্রসঙ্গ টেনে জাফরুল্লাহ বলেন, “শুধুমাত্র কথা বলার কারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আবুল আসাদকে একবছর যাবত আটকে তাকে জামিন দেওয়া হচ্ছে না। অথচ যারা যারা লক্ষ-কোটি টাকা পাচার করেছে তাদের জামিন আগেই হয়ে যায়। এটা কি গণতন্ত্র হতে পারে?”

‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন দাবি বাতিল পরিষদ’ নামক সংগঠনের উদ্যোগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এ সংযোজিত ৯০ ধারাসহ সব কালোআইন ও আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন বাতিলের দাবিতে এই অবস্থান কর্মসূচি হয়।