দক্ষিণখানে জঙ্গি সংগঠন এর নিয়ন্ত্রক ও বিভাগীয় নায়কসহ ৭জঙ্গি গ্রেফতার

শাকিবুল হাসানঃ  রাজধানীর দক্ষিণখান থানাধীন আশকোনা এলাকায়   জঙ্গি সংগঠন “আল্লাহর দল (আল্লাহর সরকার) এর ৭ জন সক্রিয় জঙ্গি সদস্যকে  গ্রেফতার করা হয়েছে ।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২০ জুন (শুক্রবার)  আনুমানিক রাত ৮:৩০ মিনিটের সময়  অভিযান পরিচালানা করে তাদের গ্রেফতার করেন  র‌্যাব-১ ।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, মোঃ আব্দুল হান্নান (৪৯), পিতা-ইসহাক আলী, মেহেদী মোর্শেদ পলাশ (২৮), পিতা-মৃত মোকছেদ আলী, মোঃ সোহেল হোসেন (৩১), পিতা-আব্দুস সাত্তার, হাসান মাহমুদ (৩৫), পিতা-কাজী আলতাফ হোসেন, মোঃ নাজমুল হাসান রাজু (২৪), পিতা-মোঃ শামসুল আলম, মোঃ রেজাউল ইসলাম (৩১), পিতা-মোঃ আবুল খায়ের মোল্লা, মোঃ রবিউল ইসলাম (৩৩), পিতা-শুকুর আলী সরদার।

গ্রেফতারকৃতদের নিকট হতে জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করণে ০১ টি বই, ০৫ টি মোবাইল ফোন, নগদ ৩৫,০৮০/- টাকা এবং জঙ্গি কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ করণে লিফলেট, আয়-ব্যয় ও বিভিন্ন হিসাবের ফরমসহ বিবিধ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জঙ্গি সংগঠন “আল্লাহর দল (আল্লাহর সরকার) এর সদস্য বলে স্বীকার করেছে।

গ্রেফতারকৃত আসামী ও পূর্বে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ১৯৯৫ সালে জঙ্গি মতিন মেহেদী @ মুমিনুল ইসলাম @ মতিন মাহবুব @ মেহেদী হাসান @ মতিনুল হক এর নেতৃত্বে “আল্লাহর দল” নামক জঙ্গি সংগঠনটি গড়ে উঠে এবং ২০১৪ সালে মতিন মেহেদীর গোপন নির্দেশে এটি “আল্লাহর সরকার” নাম করণ করা হয়। এই সংগঠনটি গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের সংবিধানে বিশ্বাসী নয়। তাদের মূল লক্ষ্য অনুকূল পরিবেশে দেশের মধ্যে ব্যাপক নাশকতায় লিপ্ত হয়ে গণতান্ত্রিক সরকারকে উৎখাতের মাধ্যমে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা এবং তাদের নিজেদের কাঠামো অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

৫ তারা সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সর্বোচ্চ পদকে “তারকা’ হিসেবে চিহ্নিত করে। এছাড়া কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পর্যায়ক্রমে রয়েছে অধিনায়ক, অতিরিক্ত অধিনায়ক, উপ-অধিনায়ক, যুগ্ম অধিনায়ক, সহ অধিনায়ক, নিয়ন্ত্রক এবং নির্বাহী প্রভৃতি এবং আঞ্চলিক কাঠামোতে রয়েছে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় নায়ক, জেলা নায়ক, থানা নায়ক, গ্রাম নায়ক এবং সদস্য। তাদের মতে, বর্তমানে যুদ্ধাবস্থা চলছে বিধায় তারা ঈদ, কোরবানী, হজ্ব ইত্যাদি পালন করে না; জুমার নামাজ আদায় করে না এবং প্রতি ওয়াক্তের শুধুমাত্র ২ রাকাত নামাজ আদায় করে। এমনকি ইসলামের কালেমার সাথে শেষ নবীর নাম যুক্ত করার ক্ষেত্রেও তাদের ভিন্নমত রয়েছে। তারা মনে করে বর্তমান সময়ের জন্য জঙ্গি মতিন মেহেদি আল্লাহর বিশেষ দূত হতে পারে।

গ্রেফতারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা ইসলামের অপব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিবেশন এবং ভ্রান্ত ইসলামী সংগীতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করে। জঙ্গি কার্যক্রমকে জোরদার করার জন্য তারা আর্থিক কাঠামো তৈরী করেছে। সংগঠনটির যাবতীয় আর্থিক মূলধনের একটি বড় অংশ নামে বেনামে দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে। এ বিষয়ে র‌্যাবের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

উপরোক্ত বিষয়াদি অদ্য ২১ জুন ২০২০ ইং তারিখ র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল শাফী উল্লাহ বুলবুল’র স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিৎ করা হয়।