ঢাকা নগরীর রাস্তায় কোনো ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে না

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ঢাকা নগরীর রাস্তায় কোনো ধরনের ব্যাটারিচালিত রিকশা চলবে না এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে রোববার (১৮ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ডিএমপির মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এমন নির্দেশ দেন তিনি।

তিনি বলেন,  ‘কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের অবস্থান, গতিবিধি, ইভটিজিং ও মাদকসেবনের স্থানগুলোতে নজরদারি করতে হবে বিট অফিসারদের।এক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট বিট অফিসারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ঢাকা মহানগরীর স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি পূর্ণোদ্যমে অস্থায়ী চেকপোস্ট করারও নির্দেশ দেন ডিএমপি কমিশনার।

নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, ‘থানার প্রতিটি বিটে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সচেতনতামূলক সমাবেশ করা যেতে পারে। এসব সমাবেশে নারীদের কাছ থেকে তাদের সমস্যা সম্পর্কে জানতে এবং সমস্যা সম্পর্কে করণীয় বিষয়ে তাদের সুপারিশগুলো বিবেচনায় নিতে হবে।’

নারী নির্যাতন ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধসমূহের নিয়ামক মাদক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র বেশি মাদক জব্দ করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। মাদকসেবীদের চিহ্নিত করে তাদের মাদকসেবন থেকে ফিরিয়ে আনতে পারলে মাদকসেবী কমার সঙ্গে সঙ্গে মাদকও কমে যাবে।’

ফ্লাইওভারগুলোতে উঠা ও নামার জায়গায় উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিসি ক্যামেরা বসাতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘গাড়ি ও মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধে প্রযুক্তির সাহায্য নেয়া যেতে পারে। ক্রাইম ডাটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিডিএমএস) ও সাসপেক্ট আইডেন্টিফিকেশন অ্যান্ড ভেরিফিকেশন সিস্টেমের (এসআইভিএস) মত সফটওয়্যার হালনাগাদ করে চোর/ছিনতাইকারীদের তালিকা তৈরি ও তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। গাড়ি ও মোটরসাইকেল ট্রাকিং সিস্টেমের আওতায় আনা হলে চুরি অনেকাংশে কমে যাবে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে বিজ্ঞানসম্মত তদন্ত করুন। এমন কোনো অপেশাদার আচরণ করবেন না, যেন আপনার ব্যক্তিগত দায় চলে আসে।’

জিডি ও মামলা মনিটরিং বিষয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে কমিশনার বলেন, ‘থানায় জিডি ও মামলার ক্ষেত্রে ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে সেবা প্রত্যাশীদের ফোন করে পুলিশের সেবার মান সম্পর্কে জানতে চেয়ে ৯৫ শতাংশের বেশি মানুষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এটা একটি ভালো দিক। এটাকে ধরে রেখে আরো ভালো সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’

সেপ্টেম্বর মাসের এই মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় অপরাধ দমনে  শ্রেষ্ঠ বিভাগ নির্বাচিত হয়েছে গুলশান বিভাগ, শ্রেষ্ঠ গোয়েন্দা বিভাগ নির্বাচিত হয়েছে গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগ ও শ্রেষ্ঠ ট্রাফিক বিভাগ নির্বাচিত হয়েছে ট্রাফিক লালবাগ বিভাগ। এছাড়াও ঢাকা মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন পদমর্যাদার ৮৭ জনকে পুরস্কৃত করেন ডিএমপি কমিশনার।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, উপ-পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।