ডিজিটাল পৌরসভা গড়তে চাই-রেজাউল করিম স্বপন

লালমনিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন জেলা আওয়ামী যুবলীগের অর্থ বিষয়ক সম্পাদক এবং লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাট্রি এর পরিচালক রেজাউল করিম স্বপন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। পালন করেছেন লালমনিরহাট সরকারী কলেজের এজিএস এবং জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব । নির্বাচন নিয়ে তার প্রত্যাশা, জনকল্যাণমূলক ভাবনা ইত্যাদি বিষয়ে তিনি কথা বলেছেন দৈনিক সংবাদ দিগন্তের রংপুর ব্যুরো চিফ সৈয়দ মূলক চাঁদ সবুজের সঙ্গে।

128144329_716072192661814_6889506257557840077_n

সংবাদ দিগন্ত : লালমনিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। মেয়র পদে কেন নির্বাচন করতে চান?

রেজাউল করিম স্বপন: ধন‌্যবাদ। আমি লালমনিরহাট পৌরসভার বাসিন্দা। এই এলাকায় আমি ছোট থেকে বড় হয়েছি। এলাকার সংকট, সমস‌্যা, সম্ভবনা আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি। ছাত্রজীবন থেকে এলাকাবাসীর দুঃখ-কষ্ট দেখেছি। তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল, যদি কখনো সুযোগ হয় আমি জনপ্রতিনিধি হয়ে কাজ করবো। মানুষের পাশে আরো বিস্তৃত অর্থে দাঁড়ানোর জন‌্য আমি ‌মেয়র পদে নির্বাচন করতে চাই।

সংবাদ দিগন্ত : দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কতটুকু আশাবাদী?

রেজাউল করিম স্বপন : আমি খুবই আশাবাদী । কারণ আমি যেটা বিশ্বাস করি, নির্বাচনের মূল শক্তি হলো জনসমর্থন। আমাদের লালমনিরহাট পেীরসভার যারা নাগরিক আছেন, তাদের ভোটের উপরই কিন্তু আমাদের পৌরসভার ভবিষৎ নির্ভর করবে। আমাদের দলের যারা শীর্ষ  নেতৃবৃন্দ রয়েছেন তারাতো অবশ্যই দলীয় প্রতীকটি দেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বপ্রথম দলীয় সমর্থনকে গুরুত্ব দিবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। দলীয় প্রার্থী আমরা একাধিক থাকতেই পারি । কিন্তু মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে দল প্রথমেই দেখবেন এলাকার জনগণ কাকে চায়। বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষের কাছে কার গ্রহণযোগ্যতা বেশী ।দলীয় ফোরাম, বিভিন্ন সংস্থা, বিভিন্ন সেক্টর এর তথ্যের ভিক্তিতে জরিপ করলে আমি আশাবাদী । আমি ছাত্র জীবন থেকে দলীয় রাজনীতি করি। ছোটবেলা হতেই মানুষের পাশে থাকছি । গত পৌরসভা নির্বাচনেও আমি দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম । কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটা স্বীদ্ধান্ত দিয়েছিলেন যারা  তখন দলীয় মেয়র ছিলেন তারাই যাতে মনোনয়ন পাবেন , তাই গতবার আমি দলের মনোনীত প্রার্থীর হয়ে কাজ করেছি । বিগত বিএনপির  সময়  দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিরোধী দলের হয়রানীর শিকার হয়েছি বহুবার। কিন্তু লক্ষ‌্যে অটুট থেকেছি। ওয়ান ইলেভেনের সময় নেত্রীর মুক্তি আন্দোলনে রাজপথে থেকেছি। এখনও অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি ঘোষণার পর করোনা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে, তাদের স্বাস্থ‌্যবিধি মেনে চলতে রাজপথে ঘুরে ঘুরে মাস্ক, হ‌্যান্ড স‌্যানিটাইজার বিতরণ করেছি। লক ডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে খাদ‌্য সহায়তা, ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করি। শুধু পৌরসভা এলাকা নয়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় আমি এই কার্যক্রম পরিচালনা করেছি। এই কার্যক্রমগুলো এখনো অব‌্যাহত আছে। অর্থাৎ মানুষের জন‌্য কাজ করার দুর্নিবার ইচ্ছা আমার। জননেত্রী শেখ হাসিনা চান সৎ, নির্ভিক, তারুণ্যদীপ্ত এবং দুর্নীতিমুক্ত, মানুষের ভাগ‌্য উন্নয়নে এবং মানুষের ঘরে ঘরে সেবা পৌঁছে দিতে পারবে এমন নেতৃত্ব। আমি ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী হিসেবে, নেত্রীর নগণ্য কর্মী হিসেবে মনোনয়ন চাই। মেয়র হলে আমার প্রধান কাজ হবে দেশের উন্নয়নে নেত্রীর ভিশন বাস্তবায়ন করা।

সংবাদ দিগন্ত : করোনায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আপনারা কাজ করছেন। তারুণ্যের এই জয়গান, দেশপ্রেম মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে আপনাকে কতটা এগিয়ে রাখবে বলে মনে করেন?

রেজাউল করিম স্বপন : আসলে যে কোনো পরিস্থিতিতে তরুণরা যেভাবে এগিয়ে যেতে পারে, অন‌্যরা তা পারে না। করোনার মধ‌্যে তরুণরাই কিন্তু পথ দেখিয়েছে। আমি নিজে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কাজ করেছি। আমার সঙ্গে অনেকেই করেছে। আমরা জীবনের কথা চিন্তা করিনি। প্রতিদিন ধারাবাহিকভাবে প্রত‌্যেক ওয়ার্ডে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থেকেছি। কারণ তরুণরা ঝুঁকি নিতে ভয় পায় না। সেক্ষেত্রে আমি অনেক বেশি আশাবাদী। আমাদের এই কার্যক্রমের নিশ্চয়ই মূল্যায়ন হবে।

সংবাদ দিগন্ত : এলাকার সমস‌্যা বা সম্ভবনার বিষয়গুলো চিহ্নিত করে কাজ করার আপনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

রেজাউল করিম স্বপন: পৌরসভার জনগণ সঠিকভাবে সেবা পাচ্ছে না । তাই আমার প্রধান লক্ষ্য হবে পৌরসভার জনগণের একটা পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেইজ তৈরী করা । যাতে করে ডাটাবেজকে কেন্দ্র করে জনগণকে সঠিক ও বেশী সেবা প্রদান করা যায়। পৌরসভায় অনেক রাস্তা আছে, যেগুলোর যথাযথ সংস্কার নেই, টেন্ডার প্রক্রিয়ার দীর্ঘ সুত্রিতার কারণে বেশীরভাগ সময় ছোট সমস্যাগুলোও বেশী বড় হয়ে যাচ্ছে এবং জনগণও দুর্ভোগ পোহায় । এজন্য একটা মোবাইল বা থোক বরাদ্দ করা দরকার । যাতে ছোটখাট গর্ত বা ভাঙাচুড়া শুরু হলে টেন্ডারের জন্য অপেক্ষা না করে  থোক বরাদ্ধ থেকে দ্রুতই সংস্কার করা যায় । মশা নিধন, রোড লাইট , ময়লা আবর্জনা পরিস্কার, শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার।  পৌরসভার সকল কাজকে ডিজিটাল করা এখন সময়ের দাবী । এতে করে জনগনও বাসায় বসে হয়রানী ছাড়াই দ্রুতই নাগরিক সেবা পাবে । পৌরসভার চিকিৎসা ব্যবস্থাটা জোরদার করা । একটা মেডিকেল বুথ করা যাতে জনগণ সেবা পায় । বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প করা।  এ্যাম্বুলেন্স সেবা যথাযথ থাকতে হবে যাতে পৌরসভার জনগণ দ্রুতই এ্যাম্বুলেন্স সেবা পায়।  মানুষের মৌলিক সমস‌্যা সমাধানের পাশাপাশি আধুনিক ও ডিজিটাল পৌরসভা গড়ে তুলতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে চাই। এলাকায় চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, ভূমিদস‌্যু, মাদকের বিরুদ্ধে আমি এরইমধ‌্যে যুদ্ধ ঘোষণা করেছি।

 

সংবাদ দিগন্ত : এলাকায় মাদক ও জুয়ায় আসক্ত বহু লোক । এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নিবেন?

রেজাউল করিম স্বপন : আমরা সীমান্তবর্তী জেলা । অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র । মাদক ও জুয়া মানুষকে আরো বেশী দরিদ্র করছে । ইতিমধ্যেই আইনশৃংখলা বাহিনী মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে তাদের কার্যক্রম জোরদার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে । এক্ষেত্রে আমি কঠোর হাতে তা দমনের পক্ষপাতি । শুধু কঠোর হলেই হবে না । এলাকা ও পাড়া মহল্লায় সাহিত্য , সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় উঠতি ছেলেমেয়েদের সম্পৃক্ত করতে হবে । তরুণ সমাজ খেলাধুলা ও সাহিত্য সংস্কৃতিতে নিজেদের আনন্দ খুঁজে পেলে তারা মাদক ও জুয়া হতে বিরত থাকবে । এছাড়াও তরুণ সমাজ ও তাদের অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচী গ্রহণের মাধ্যমে মাদক ও জুয়া নির্মূল করা সম্ভব।

 

সংবাদ দিগন্ত: বেকার সমস্যা এই পৌরসভার একটি বড় সমস্যা । এই সমস্যা দূরীকরণে কি ভূমিকা নিবেন?

রেজাউল করিম স্বপন: আপনি ঠিকই বলেছেন । এই বেকারত্বর কারণে কিন্তু তরুণ সমাজ হতাশ হয় এবং নেশা, জুয়াতেও বেকারত্ব ভূমিকা পালন করে । তাই বেকার সমস্যা দূরীকরণে সবচেয়ে বেশী জোর দেওয়া দরকার । তরুণ ও বেকারদের জন্য নানামূখী প্রশিক্ষণ প্রদাণ ও তাদের কর্মব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে । এক্ষেত্রে সরকারের যে কর্মসূচীগুলো আছে সেগুলোকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো দরকার । অশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত ও শিক্ষিত বেকারদের চিহ্নিত করে তাদের উপযোগী কাজের ক্ষেত্র সৃষ্টি করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি আনা সম্ভব ।

সংবাদ দিগন্ত: সবশেষ কি বলবেন?

রেজাউল করিম স্বপন: আমি সবসময় এলাকাতেই আছি। এলাকার উন্নয়নে সবসময় সামাজিক কাজে যুক্ত থেকেছি। এই পৌরসভাকে আমি মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আসলে আমি মনে করি, জনপ্রতিনিধির কাছে মানুষ আসবে না, জনপ্রতিনিধি মানুষের কাছে যাবে।