টংগিতে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

শাকিবুল হাসানঃ গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার দুপুরে হোসেন মার্কেট এলাকার ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু হয়।

নবজাতকের পিতা মোঃ ওসমান গনি, মাতা আবিদা আক্তার। তারা টঙ্গী বনমালা রোডের দত্তপাড়া এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা। বছর তিনেক আগে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন তারা।এটাই ছিল তাদের দাম্পত্য জীবনের প্রথম সন্তান।

নবজাতকের পিতা ওসমান মিয়া জানান , মঙ্গলবার ভোরে আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।সে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন।ছেলে জন্ম নেওয়ার পরে চিকিৎসকরা তার শ্বাসকষ্ট জনিত রোগটি নিশ্চিত করেন।এমনিতে ভালোই ছিল বেলা ১.৩০ টার দিকে হঠাৎ বাচ্চার শ্বাসকষ্ট বেশি হচ্ছিল চেহারা নীল হয়ে গিয়েছিল। আমি তখন ইমার্জেন্সি ডিউটি ডাক্তার এর রুমে গিয়ে দেখি উনি শুয়ে আছেন।তাকে ডাকলে তিনি উঠেন, বল্লাম আমার বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে শরীর নীল হয়ে গেছে,জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার তানবির বললেন, বাচ্চাটাকে মায়ের কাছে রাখেন বিকাল ৫.০০ টায় শিশু ডাক্তার লুৎফর রহমান স্যার আসলে দেখবে।তিনি আমার কথার কোন গুরুত্ব দেয়নি। পরে বাচ্চার অবস্থার অবনতি হলে বারবার জরুরি বিভাগের চিকিৎসককে বললেও তিনিও গুরুত্ব দেননি। এর ঠিক ১৫ মিনিট পর আবারও নার্সকে ডাকি, বললাম আপা বাচ্চার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে শরীর কেমন নীল হয়ে যাচ্ছে প্লিজ কিছু করেন।  নার্স আপা বাচ্চাকে দেখে ডিউটি ডাক্তার তানবির সাহেবের সাথে কথা বললেন। কি বললেন আমি জানিনা, আমি কক্ষের বাহিরে ছিলাম।নার্স বাহির হয়ে আমাকে কিছু না বলে অন্য ওয়ার্ডে চলে গেল।এর পর আমার বাচ্চার অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে।এক পর্যায়ে দেখি বাবা আমার নড়াচড়া করছেনা,শ্বাস নিচ্ছে না,সমস্ত শরীর নীল হয়ে গেছে।আমি আমার মাকে ফোন দিয়ে হাসপাতালে আসতে বলি।পরে বাচ্চাকে কুলে নিয়ে জরুরি বিভাগের নিকট যাই।জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বাচ্চাকে আই সি ইউ-তে নিয়ে যায়। এরপরে ১০-১৫ মিনিট পরে তারা এসে বলে আমার বাচ্চা আর নেই।
জরুরি বিভাগের চিকিৎসককে বারবার বলেছিলাম চিকিৎসা করতে কিন্তু তারা তা করেননি। এমনকি কোনও নার্সও ঠিকমত কেয়ার করেনি। চিকিৎসকের গাফিলতিতে আমার সন্তান মারা গেলো। চিকিৎসা না পেয়ে আর কোনও বাবা মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়, সে জন্য দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।এমনি করে আহাজারি করে বলছিল নবজাতক শিশুটির বাবা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টঙ্গী জোনের এ ডি সি ক্রাইম শাহাদাত হোসেন,টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক,এস আই সাইফুল,স্থানীয় কাউন্সিলর জনাব নাসির উদ্দিন মোল্লা, যুবলীগ নেতা বিল্লাল হোসেন মোল্লা, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের চেয়ারম্যান হাসমত।

জরুরি বিভাগের চিকিৎসারত ডাক্তার তানবির বলেন।সকাল ৭.৩০ মিঃ নরমাল বার্থ ডেলিভারী
হয়।তবে বাচ্চা ডেলিভারিতে কিছুটা সময় লেগেছিল তাই  জরায়ুর পথ এবং বায়ু পথ এজেন্ট করে নরমাল ডেলিভারী করানো হয়।সকাল আটটার সময় আমি বাচ্চাকে স্বাভাবিক দেখেছি।১ টা থেকে ১.১৫ টার দিকে প্রফেসর ডাঃ সালমা বাচ্চাকে দেখে বলেন বাচ্চা ভাল আছে ইচ্ছে করলে তারা বাড়ি যেতে পারে। তবে বিকেলে শিশু ডাক্তার লুৎফর রহমান সাহেব আসলে তাকে দেখিয়ে যেতে পারেন।

ডাক্তার তানবির আহমেদের দাবি আমি যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি বাচ্চাকে সুস্থ করে তুলার জন্য।আমার পক্ষ থেকে কোন গাফিলতি ছিলোনা।

লুৎফুর রহমান কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে চিকিৎসায় কোনও গাফিলতি ছিল না।আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছি।

হাসপাতালের চেয়ারম্যান হাসমত আলী বলেন, চিকিৎসায় বিলম্ব বা অবহেলা করার কারণে শিশুটির মৃত্যু হতে পারে।অথবা নবজাতককে দুগ্ধ পান করানোর সময় শ্বাসনালী বন্ধ হয়ে গিয়ে মৃত্যু হতে পারে।

এ ঘটনায় টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ জানান,এ ব্যপারে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় নবজাতকের আত্মীয়স্বজন মা-বাবা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।