গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ এর পর বয়স্ক কার্ড জুটলো শশীর কাপালে

ফয়সাল আহমেদঃ  কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড স্লুইস  গেট মাঝিপাড়া এলাকার মৃত হরে কান্ত’র স্ত্রী শশি বালা।
শশি বালার ১ ছেলে ও ১ মেয়েকে ছোট রেখে স্বামী মারা যাওয়ার পর ছেলে মেয়েকে অনেক কষ্ট করে বড় করেছেন তিনি। বিয়েও দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস,বৃদ্ধা মাকে রেখে ছেলে মেয়ে দুজনই পরপারে পারি জমিয়েছে।এই বৃদ্ধ বয়সে তাকে দেখার আপন বলতে আর কেউ নেই।স্বামির জমি-জমা না থাকায় দীর্ঘ দিন ধরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ রাস্তার জায়গায় বাড়ী করে ছিল শশি বালা।
সম্প্রতি পাউবো বাধ সংস্কারের জন্য উচ্ছেদ অভিযান চালালে শশির ঘরটিও ভাঙ্গা পড়ে যায়। এতে বাস্তভিটে হারা হয়ে তিনি চাচাতো ভাই সূর্য কান্ত’র বাড়ীর রান্না ঘরে আশ্রয় নেন। সারাদিন ভিক্ষা করে যা পায় তাই খেয়ে আশ্রয় নেয়া মানুষের রান্না ঘরের মেঝেতে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন শশি। চেয়ারম্যান মেম্বারদের কাছে গিয়েছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘অনেকবার গেছিনু, হামার কথা কাঁইও শোনে না’। তার অভিযোগ মেম্বার-চেয়ারম্যানদের হাতে টাকা দিতে পারলে এতো দিনে তার একটা বিহিত হ’ত। সেই ক্ষমতা তার নাই জন্য বিধবা ভাতা কিংবা বয়স্ক ভাতার কোনটিই তার ভাগ্যে জোটেনি। শশী বালার বয়স আর কত হলে বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা পাবে? এখন এটাই তার কাছে সব থেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউপি সদস্য আহাদ আলীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, খোঁজ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রমনা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আজগার আলী সরকার জানান,শশী পাগলীকে আমি ব্যাক্তিগতভাবে জানি। তাকে বিভিন্নভাবে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তবে বিধবা কিংবা বয়স্ক ভাতার কার্ড হয়নি। সামনে সুযোগ আসলে যে কোন স্থায়ী কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে বলেও কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করেন নি পরে যুগান্তর প্রতিনিধি জনাব গোলাম মাহবুব ও ফয়সাল আহমেদ সরেজমিনে শশী বালার তথ্য সংগ্রহ করে গণমাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ করায় উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার জনাব লুৎফর রহমান শশী বালাকে বয়স্ক কার্ড উপহার দিলেন।