কেরানীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টারঃ কেরানীগঞ্জে মেরিস্টোপস ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় সুমি আক্তার (২৪) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলার কালিন্দী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বোরহানবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমির মেরী স্টোপস ক্লিনিকে সিজার অপারেশন করার সময় মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন সুমির স্বামী জান শরীফ। সুমির স্বামী জানান, রোববার বেলা ১১টার দিকে সুমিকে মেরী স্টোপস ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

ভর্তির পর সিজার করতে হবে বলে জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বেলা ২টার সময় সিজার করার কথা থাকলেও বিকেল ৪টার পর অপারেশন হয় তবে অপারেশনের সময় মৃতের পরিবারের কাউকে জানানো হয়নি বলে জানান রক্তদান করতে আসা প্রতিবেশী তানভীর হোসেন। তানভীর আরো জানান, তারা হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে অপারেশন কখন হবে জানতে গেলে তাদের হাতে যমজ (১টি ছেলে ও ১মেয়ে) বাচ্চা দিয়ে বলা হয় সিজার অপারেশন হয়ে গেছে। সুমির একটি ৭বছরের প্রতিবন্ধী মেয়েও রয়েছে বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, অপারেশন থিয়েটারে ছিলেন হাসপাতালের ডা. সাজেদা খাতুন ও এনেসথেসিয়া ডা. মনির হোসেন। তবে কোন ধরনের পরীক্ষা না করেই তারা রোগীর শরীরে এনেসথেসিয়া ইনজেকশন দেন ও সিজার করেন। যমজ শিশুর জন্ম হয়। এতে ব্যাপক রক্তক্ষরণে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় সুমির। অবস্থার আরো অবনতি হলে রোগীকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (মিডফোর্ট হাসপাতাল) পাঠায় তারা। মিডফোর্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত ডাক্তার।

মৃত সুমির বাবা সুলতান আহমেদের আহাজারি

এ বিষয় জানতে চাইলে মেরী স্টোপস ক্লিনিকের কর্তব্যরত ডাক্তার ফাতেমাতুজ জোহরা মুক্তা প্রথমে কথা বলতে না চাইলেও পরে জানান, এই হাসপাতালে সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে মিডফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়। তিনি আরো বলেন, রোগী সেখানেই মারা যায়। তবে মিডফোর্ট হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার বলেন, রোগী আগেই মারা গেছে। এ বিষয় মেরী স্টোপস ক্লিনিকের ম্যানেজার মোকলেসুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মৃত সুমির বাবা সুলতান আহমেদ ও তার পরিবারসহ এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। এ বিষয় অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার নবাগত ওসি (তদন্ত) ইমরান হোসেন।