করোনাভাইরাসের টিকা যেন সবাই একসঙ্গে পায়: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ফটো

সৈয়দ চয়ন: মহামারীর মহাসঙ্কটে পৃথিবীর সব মানুষের ভাগ্য যে ‘একই সূত্রে গাঁথা’ সেই সত্যটি বিশ্ব নেতাদের মনে করিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাসের টিকা উদ্ভাবন সম্ভব হলে তা সব দেশের মানুষের হাতে তা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বও এ বিশ্বকে নিতে হবে।

বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের নেতা হিসেবে শনিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে দেওয়া বক্তৃতায় শেখ হাসিনা বলেন, “আশা করা হচ্ছে বিশ্ব শিগগিরই কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন পাবে। এই ভ্যাকসিনকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সকল দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময় মত এবং একইসঙ্গে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব দেওয়া হলে, এই ভ্যাকসিন ‘বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের সক্ষমতা’ বাংলাদেশের রয়েছে বলেও টিকা তৈরির দৌড়ে এগিয়ে থাকা রাষ্ট্রগুলোকে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

গত বছরের শেষে চীন থেকে ছড়াতে শুরু করে পুরো বিশ্ব দখল করে নেওয়া নতুন করোনাভাইরাস ইতোমধ্যে সোয়া তিন কোটি মানুষকে আক্রান্ত করেছে, মৃত্যু ঘটিয়েছে প্রায় দশ লাখ মানুষের।

পৃথিবীর মানুষ এখন অপেক্ষা করছে টিকার জন্য, এর ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের অনেক কিছু, আর ধনী-গরিব নির্বিশেষে সব দেশের জন্যই এটা সত্যি।

নতুন এই করোনাভাইরাসের কার্যকর টিকা তৈরির চেষ্টায় বিশ্বে এখন প্রায় দুইশ গবেষণা চলছে। এর মধ্যে আধা ডজন সম্ভাব্য টিকা পৌঁছেছে পরীক্ষার একেবারে শেষ পর্যায়ে।

ধনী দেশগুলো বেশ কয়েক মাস আগে থেকেই বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছে, যাতে টিকা তৈরি হলে সবার আগে তা পাওয়া যায়।

তাহলে গরিব দেশগুলো, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ যেসব দেশের বাসিন্দা, তাদের ভাগ্যে কী ঘটবে? কিছু দেশ টিকা পেলে আর অন্য দেশে মহামারী চলতে থাকলে বিশ্ব কী ভাইরাসমুক্ত হতে পারবে?

সেজন্যই জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন এ বিশ্ব সংস্থার জন্ম ইতিহাস এবং ঐক্যের গুরুত্ব।

“দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ যেমন জাতিসংঘ সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বের সকল দেশের ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের উপর গুরুত্ব আরোপের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল, তেমনি এই মহামারী আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে সঠিক নেতৃত্ব প্রদানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ আরও প্রকট হয়েছে। এ মহামারী আমাদের উপলব্ধি করতে বাধ্য করেছে যে, এ সঙ্কট উত্তরণে বহুপাক্ষিকতাবাদের বিকল্প নেই।”

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জাতিসংঘের ৭৫ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিশ্ব নেতৃবৃন্দ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন ‘ভার্চুয়ালি’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও জাতিসংঘে তার ভাষণটি দিয়েছেন ধারণ করা ভিডিওর মাধ্যমে।

জাতিসংঘের সভাকক্ষটি ঘিরে ‘ব্যক্তিগত আবেগের’ কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “১৯৭৪ সালে এই কক্ষে দাঁড়িয়ে আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সদ্য স্বাধীন দেশের সরকার প্রধান হিসেবে মাতৃভাষা বাংলায় প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন। আমিও এই কক্ষে এর আগে ১৬ বার সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দ্যের ডাক দিয়েছি। সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এটি আমার ১৭তম বক্তৃতা।”

কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে বিশ্ব এখন মানব ইতিহাসের এক ‘অভাবনীয় দুঃসময়’ অতিক্রম করছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি স্বাস্থ্যকর্মীসহ সকল পর্যায়ের জনসেবকদের, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিনিয়ত অক্লান্ত পরিশ্রম করে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ও জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিয়ে চলেছেন। সাধুবাদ জানাই জাতিসংঘ মহাসচিবকে এই দুর্যোগকালে তার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও বহুপাক্ষিক উদ্যোগের জন্য। বাংলাদেশ শুরু থেকেই যুদ্ধ বিরতিসহ তার অন্যান্য উদ্যোগসমূহকে সমর্থন জানিয়ে আসছে।”