এন আর বি গ্লোবাল লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানির আড়ালে এম এল এম প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টারঃ উওরায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এম এল এম  প্রতারণা।সরকারি নিষিদ্ধ ঘোষিত হলেও রাজনৈতিক সেল্টারে দাপটের সাথে ব্যবসা করে যাচ্ছে এই সকল প্রতিষ্ঠান।

কিছুদিন পর পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে এই কুচক্র মহল কে জেল জরিমানা করলেও কোনোক্রমে থামছে না এই প্রতারণা ব্যবসা।অল্প দিনে কোটিপতি হওয়ার নেশায় অনেকেই  ঝুঁকছেন এই পেশায় ।এদের টার্গেট গ্রামের সহজ সরল যুবক-যুবতীদের।বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে লাপাত্তা হয়ে যাওয়াই এদের মূলত কাজ।এই ব্যবসায় লক্ষ লক্ষ টাকা ইনভেস্ট করে পথে বসেছেন অনেকেই।
রাজধানীর উওরার বাড়ি নং- ৩৫ রোড নং- ১০ সেক্টর-৬ এ অবস্থিত এনআরবি  গ্লোবাল লাইফ ইন্সুরেন্স নামক একটি ভূয়া কোম্পানি।
সরেজমিনে সংবাদকর্মীরা   প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে প্রবেশ করলে দায়িত্বরত কাউকে পাওয়া যায় নি।অনেক খোঁজাখুঁজি করার পর তারেক নামে  একজন ব্যক্তিকে পাওয়া গেলে তিনি সংবাদকর্মীদের  জানান, তিনি এখানে কোন দায়িত্বে নেই। প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র দেখতে চাইলে  সামান্য একটি ট্রেড লাইসেন্সও দেখাতে পারেননি তারা।প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্বে থাকা আরও  এক ব্যক্তি আমাদের জানান,মূলত তাদের এই অফিসটি শাখা অফিস ।হেড অফিস মতিঝিলে।হেড অফিসের অনুমতিতে তারা এই অফিসটি খুলেছেন।বিভিন্ন রকম ইন্স্যুরেন্সের পরিচয় দিলেও কোনো কাগজপত্র দেখাতে  পারেননি অত্র প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ।
বেঙ্গল কোম্পানির পরিচয় দিয়ে মাসের-পর-মাস তারা এখানে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ।তবে বেঙ্গল কোম্পানির সাথে কথা বললে তারা সাফ জানিয়ে দেয় এরকম কোন কোম্পানি তারা চিনে না। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে কিসের বলে তারা এই প্রতিষ্ঠানটি এখানে চালাচ্ছে।
নাম  না প্রকাশ করার শর্তে একজন ভুক্তভোগী আমাদের জানান,তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।তিনি আরো একজন ব্যক্তি এনে দিতে পারলে তার বেতন প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।এরকম আরো একজন নিতে পারলে তার বেতন ১০০০০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়: অত্র প্রতিষ্ঠানটি দক্ষিনখান ফরিদ মার্কেট থেকে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে এখানে এসেছে।বিগত সময় এই প্রতিষ্ঠানের নাম ছিলো সানরাইজ মার্কেটিং।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন,প্রশাসনের সঠিক তদারকি  কি না থাকার কারণে দিনের পর দিন এই প্রতারণা ব্যবসা বেড়েই চলছে।এই সকল ব্যবসা প্রতিহত করতে হলে প্রশাসনের তদারকি ও নজরদারি বাড়াতে হবে।