অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই ,রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক

সৈয়দ চয়ন: অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর নেই। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল শরীরে জ্বর অনুভব করেন। পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর সকালে করোনা টেস্ট করালে রিপোর্ট পজেটিভ আসে। সেদিনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় তিনি রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল- সিএমএইচে ভর্তি হন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। তবে ২০ সেপ্টেম্বর তার করোনামুক্তি ঘটার কথা জানায় পরিবার।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংবিধানের ৫ম, ৭ম, ত্রয়োদশ ও ষোড়শ সংশোধনী মামলায় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ইতিহাসের অংশ হয়েছেন মাহবুবে আলম।

১৯৪৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার মৌছামান্দ্রা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মাহবুবে আলম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স ও ১৯৬৯ সালে লোক প্রশাসন বিভাগ থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৭২ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে আইন পেশা পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য হন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট এবং ১৯৮০ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন।

১৯৯৮ সালে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। তিনি ১৯৭৯ সালে ভারতের নয়াদিল্লির ইনস্টিটিউট অব কনস্টিটিশনাল অ্যান্ড পার্লামেন্টারি স্টাডিজ থেকে সাংবিধানিক আইন ও পার্লামেন্টারি বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন।

মাহবুবে আলম ১৯৯৮ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ২০০১ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এছাড়া তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ১৯৯৩-৯৪ সালে সম্পাদক ও ২০০৫-২০০৬ সালে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৪-২০০৭ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি তিনি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন এবং সাথে সাথে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পুত্র সুমন মাহবুব সাংবাদিকতা পেশায় ও কন্যা শিশির কনা আইন পেশায় রয়েছেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পৃথক শোক বার্তায় তারা সমবেদনা জানান।

শোক বার্তায়, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

শোকবার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, দেশের আইন অঙ্গনে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি মাহবুবে আলমের অবদান জাতি সব সময় শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।